Home » Blog » লোডশেডিংয়ে নাজেহাল রাজ্যের মানুষ

লোডশেডিংয়ে নাজেহাল রাজ্যের মানুষ

অব্যবস্থাপনা ও জনদুর্ভোগ ঘিরে বাড়ছে ক্ষোভ

by Planet Tripura
0 comments 190 views

রাজ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে উদ্বৃত্ত, তবু পরিষেবা তলানিতে,

অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও জনদুর্ভোগ ঘিরে বাড়ছে ক্ষোভ

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা  : দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অনিয়মিত বিদ্যুৎ পরিষেবা, ঘনঘন লোডশেডিং এবং দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার অভিযোগে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে রাজ্য উদ্বৃত্ত অবস্থানে থাকার দাবি থাকলেও বাস্তব চিত্রে বহু এলাকায় নাগরিকরা

এখনও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা থেকে বঞ্চিত, এমন অভিযোগই উঠে আসছে বিভিন্ন মহল থেকে। বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ। ঝড়-বৃষ্টি হলেই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া, লাইন মেরামতে দীর্ঘ বিলম্ব, ট্রান্সফরমারের সমস্যা এবং রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ।

বহু ক্ষেত্রে কয়েক ঘণ্টা নয়, দিনের বড় অংশ জুড়েই বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ সামনে এসেছে। বিশেষ করে রাজধানীর দক্ষিণাংশের বিস্তীর্ণ বধারঘাট এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা নিয়ে অসন্তোষ তীব্র আকার ধারণ করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বড়দোয়ালীস্থিত ইলেকট্রিক্যাল সাব-ডিভিশন–৩-এর আওতাভুক্ত এলাকাগুলিতে বিদ্যুৎ সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। অভিযোগ জানানো হলেও দ্রুত সাড়া মেলে না বলেও দাবি করেছেন বাসিন্দাদের একাংশ।

স্থানীয় সূত্রে আরও অভিযোগ, মাঠ পর্যায়ে কর্মরত কিছু আধিকারিকের বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ সংযোগ মেরামত, ট্রান্সফরমার পরিবর্তন, নতুন সংযোগ সংক্রান্ত কাজ কিংবা বাড়ির নিকটবর্তী বৈদ্যুতিক খুঁটি সংক্রান্ত কাজের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ দাবির প্রবণতা তৈরি হয়েছে। যদিও এই অভিযোগগুলির সরকারি বা স্বাধীনভাবে যাচাই এখনও হয়নি।

তবে এমন অভিযোগ সামনে আসায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।অনেকের মতে, বিদ্যুৎ নিগমের অফিস পর্যায়ে অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে সক্রিয় থাকলেও মাঠ পর্যায়ে সেই নির্দেশ বাস্তবায়নে বড় ধরনের ফাঁক থেকে যাচ্ছে। ফলে সমস্যা জানিয়েও কাঙ্ক্ষিত সমাধান পাচ্ছেন না গ্রাহকরা।

রাজনৈতিক স্তরেও বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধী মহল দাবি করছে, বিজেপি সরকারের গত আট বছরের শাসনকালে সবচেয়ে ব্যর্থ দপ্তরগুলির মধ্যে বিদ্যুৎ দপ্তর অন্যতম হয়ে উঠেছে। তাদের অভিযোগ, সমস্যা নিয়ে প্রশ্ন তুললেই দায় বর্তমান পরিস্থিতির বদলে পূর্ববর্তী বাম সরকারের উপর চাপানোর প্রবণতা দেখা যায়, কিন্তু বাস্তব সমস্যার স্থায়ী সমাধান সামনে আসছে না।

সমালোচকদের বক্তব্য, বিদ্যুৎ উৎপাদনে উদ্বৃত্ত থাকার দাবি থাকলেও সঞ্চালন ও বণ্টন ব্যবস্থার দুর্বলতা, অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণে ঘাটতি এবং প্রশাসনিক নজরদারির অভাবের কারণে সাধারণ মানুষ তার সুফল পাচ্ছেন না।

খোদ রাজধানী শহরেই যখন প্রায় নিত্যদিন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের অভিযোগ উঠছে, তখন মহকুমা ও জেলা স্তরের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক বলে দাবি করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ পরিষেবার প্রভাব শুধু আলো বা গৃহস্থালির কাজে সীমাবদ্ধ নয়, বহু এলাকায় পানীয় জল সরবরাহও বিদ্যুতের উপর নির্ভরশীল।

ফলে দীর্ঘ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার কারণে পানীয় জল সংকটও তৈরি হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলি। সচেতন মহলের দাবি, বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা নিয়ে প্রচারের পাশাপাশি পরিষেবার মান, দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তি, মাঠ পর্যায়ে জবাবদিহি এবং দুর্নীতির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে বিদ্যুৎ নিগমের শীর্ষ কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।

You may also like

Leave a Comment