“অনলাইন ওষুধ বিক্রির বিরুদ্ধে দেশব্যাপী ধর্মঘট ওষুধ ব্যবসায়ীদের”
নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা : পুর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ২০ মে বুধবার দেশজুড়ে ওষুধ ব্যবসায়ীদের ডাকা ধর্মঘটকে ঘিরে তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্য। অনলাইন ওষুধ বিক্রি বন্ধ এবং কর্পোরেট সংস্থাগুলোর অতিরিক্ত ছাড়ের প্রতিবাদে এই কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে অল ইন্ডিয়া অর্গানাইজেশন অফ কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট।
সংগঠনের রাজ্য শাখা ত্রিপুরা কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট অ্যাসোসিয়েশনও এই ধর্মঘটে শামিল হয়েছে। মঙ্গলবার খোয়াইয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলন থেকে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ই-ফার্মাসি ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ওষুধ বিক্রির ফলে স্থানীয় খুচরা ওষুধ ব্যবসায়ীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
পাশাপাশি বড় কর্পোরেট সংস্থাগুলোর দেওয়া ‘ডিপ ডিসকাউন্ট’ বা অতিরিক্ত ছাড় ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য অসম প্রতিযোগিতার পরিস্থিতি তৈরি করছে। এতে করে বহু প্রাচীন ওষুধের দোকান বন্ধ হওয়ার মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
সাংবাদিক সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরেন। সেগুলি হলো, অনলাইন ও ই-ফার্মাসির মাধ্যমে ওষুধ বিক্রিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ বা নিষেধাজ্ঞা, কর্পোরেট সংস্থাগুলোর অতিরিক্ত ছাড় বা ‘ডিপ ডিসকাউন্ট’ নীতির উপর নিয়ন্ত্রণ, নকল ও বেআইনি ওষুধের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি, ড্রাগ কন্ট্রোল ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা, লাইসেন্সবিহীন ওষুধ বিক্রির বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা গ্রহন, রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওষুধ বিক্রিতে নির্দিষ্ট নীতিমালা প্রয়োগ।
সংগঠনের মতে, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি। তবে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল ও ক্লিনিক সংলগ্ন ফার্মেসিগুলিকে এই ধর্মঘটের আওতার বাইরে রাখা হবে।
ফলে জরুরি চিকিৎসা পরিষেবায় কোনও বিঘ্ন ঘটবে না বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে। এদিকে, পূর্বঘোষিত এই ধর্মঘট কর্মসূচির বিরোধিতা করেছে ত্রিপুরা কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট অ্যাসোসিয়েশন। তাদের মতে, সম্পূর্ণভাবে দোকান বন্ধ করে দেওয়া হলে সাধারণ মানুষ বিশেষ করে গ্রামীণ ও দূরবর্তী এলাকার রোগীরা সমস্যায় পড়বেন।
তারা আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের পক্ষপাতী। ধর্মঘট ডাকা সংগঠনের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। তাদের দাবি, অবিলম্বে এই সমস্যাগুলির সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মহকুমা কমিটির সভাপতি রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্য এবং সম্পাদক তাপস রায় সহ অন্যান্য সদস্যরা। তারা বলেন, এই আন্দোলন কোনও ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, বরং গোটা ওষুধ ব্যবসা এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে। অনলাইন বাজারের প্রসার এবং কর্পোরেট প্রতিযোগিতার চাপে ঐতিহ্যবাহী ওষুধ ব্যবসা এখন এক কঠিন সংকটে।
এই ধর্মঘট সেই সংকটেরই বহিঃপ্রকাশ, যা আগামী দিনে আরও বড় আকার নিতে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।