Home » Blog » বামুটিয়া বিধানসভায় বিজেপির অন্দরে গোষ্ঠীকোন্দল

বামুটিয়া বিধানসভায় বিজেপির অন্দরে গোষ্ঠীকোন্দল

by Planet Tripura
0 comments 13 views

বামুটিয়া বিধানসভায় বিজেপির অন্দরে গোষ্ঠীকোন্দল, মন্ডল সভাপতিকে ঘিরে একাধিক অভিযোগে চাঞ্চল্য

বিস্তারিত প্রতিবেদন:
ত্রিপুরার বামুটিয়া বিধানসভা এলাকায় ভারতীয় জনতা পার্টি-র অন্দরে গোষ্ঠীকোন্দল প্রকাশ্যে এসেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি বিজেপির পশ্চিম জেলা কমিটির পক্ষ থেকে বামুটিয়া ভারতীয় মজদুর সংঘ (বিএমএস)-এর একটি নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই নতুন কমিটি ঘোষণার পর থেকেই দলের অভ্যন্তরে অসন্তোষ তীব্র আকার ধারণ করেছে বলে জানা যাচ্ছে।

সূত্র অনুযায়ী, নবনিযুক্ত সদস্যরা সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে বামুটিয়া মন্ডল সভাপতি শিবেন্দ্র দাস তাদের স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানান। অভিযোগ, তিনি পশ্চিম জেলা কমিটির ঘোষিত নতুন কমিটিকে মানতে নারাজ এবং অল্প সময়ের ব্যবধানে বারবার কমিটি গঠনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।

এদিকে দলের অভ্যন্তর থেকেই আরও গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। দাবি করা হচ্ছে, মন্ডল সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই শিবেন্দ্র দাস নিজের পছন্দমতো কমিটি গঠন করে দেড় বছর ধরে তা পরিচালনা করছেন। সেখানে নিজের ঘনিষ্ঠদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এমনকি খুনের মামলায় অভিযুক্ত একজনকে সংগঠনের কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত রাখার অভিযোগও সামনে এসেছে, যা নিয়ে দলের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ দানা বেঁধেছে।

স্থানীয়দের একাংশের দাবি, এই পরিস্থিতির ফলে বামুটিয়া বিধানসভা এলাকায় এক ধরনের অস্থিরতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি দলের ভেতরেও বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ।

আরও অভিযোগ, মন্ডল সভাপতি হওয়ার পর বিভিন্ন ক্লাবের কমিটি ভেঙে নিজের ইচ্ছামতো নতুন কমিটি গঠনের চেষ্টা করেছেন শিবেন্দ্র দাস। শুধু তাই নয়, সাংগঠনিক নানা ক্ষেত্রে নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতাও লক্ষ্য করা গেছে বলে দাবি দলের একাংশের।

এছাড়াও সম্প্রতি গ্রামীণ ব্যাংকের কালিবাজার শাখার এক ম্যানেজারের সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ, তিনি নিজেকে মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি বলে দাবি করে থাকেন এবং তার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেছেন।

দলের পুরনো কর্মীদের দাবি, বাম আমলের কিছু যুবকদের সামনে এনে যুব মোর্চার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যার ফলে দীর্ঘদিনের কর্মীরা উপেক্ষিত হচ্ছেন এবং অনেকেই নীরব হয়ে পড়েছেন।

এই সমস্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাজ্য ভারতীয় জনতা পার্টি নেতৃত্বের দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি উঠেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে আসন্ন নির্বাচনের আগে দলের সংগঠনে তার প্রভাব পড়তে পারে।

You may also like

Leave a Comment