Home » Blog » নাবালিকাকে খুন-ধর্ষণের হুমকি, থানায় মামলা দায়ের

নাবালিকাকে খুন-ধর্ষণের হুমকি, থানায় মামলা দায়ের

পিস্তলের ছবি পাঠিয়ে খুন-ধর্ষণের হুমকি

by Planet Tripura
0 comments 1 views

নাবালিকাকে পিস্তলের ছবি পাঠিয়ে খুন-ধর্ষণের হুমকি, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৮ মে :
পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার আমতলী থানার অন্তর্গত সেকেরকোট এলাকায় এক নাবালিকাকে মোবাইল ফোনে পিস্তলের ছবি পাঠিয়ে খুন ও ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন নাবালিকার বাবা। ঘটনার পর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে পুরো পরিবার।

অভিযোগ অনুযায়ী, গকুলনগর দিনদয়াল চৌমুহনি সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা জয়দেব দেবনাথ দীর্ঘদিন ধরেই ওই ১৬ বছরের নাবালিকাকে বিভিন্নভাবে বিরক্ত করে আসছিল। পরিবারের দাবি, গত দুই থেকে তিন মাস ধরে অভিযুক্ত মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা, অশালীন বার্তা পাঠানো এবং মানসিক চাপ সৃষ্টি করে আসছিল।

যদিও অভিযুক্ত ও নাবালিকার মধ্যে পূর্ব পরিচয় বা কোনো সম্পর্ক ছিল কিনা, সে বিষয়ে পরিবার স্পষ্টভাবে কিছু জানাতে চায়নি। তবে তাদের অভিযোগ, অভিযুক্তের আচরণ ক্রমশ আগ্রাসী ও ভয়ংকর হয়ে উঠছিল।

পরিবারের দাবি, গত সোমবার গভীর রাতে অভিযুক্ত নাবালিকার মোবাইলে একটি অত্যাধুনিক পিস্তলের ছবি পাঠিয়ে গুলি করে হত্যা ও ধর্ষণের হুমকি দেয়। শুধু তাই নয়, বৃহস্পতিবার সকালেও পুনরায় একই ধরনের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। অভিযুক্ত নাবালিকার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের দাবি জানাচ্ছিল বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। কথা না মানলে নাবালিকা এবং তার বাবাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ।

ঘটনার পর আতঙ্কে ভেঙে পড়েছে নাবালিকা ও তার পরিবারের সদস্যরা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে অবশেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে নাবালিকার বাবা আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে খুনের হুমকি, ধর্ষণের হুমকি, মানসিক হয়রানি এবং ভয় দেখানোর বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিবারের দাবি, এর আগেও বিশালগড় থানায় মৌখিকভাবে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। কিন্তু তখন কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেই অভিযোগ। ফলে অভিযুক্তের সাহস আরও বেড়ে যায় বলে মনে করছেন পরিবারের সদস্যরা। বর্তমানে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং অভিযুক্তের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং পকসো আইনের একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে খুনের হুমকি, ধর্ষণের হুমকি, নাবালিকাকে যৌন হেনস্তা, মানসিক ভীতি প্রদর্শন এবং ইলেকট্রনিক মাধ্যমে অপরাধমূলক হুমকি দেওয়ার অভিযোগ।

আইনজীবীদের একাংশের মতে, পিস্তলের ছবি পাঠিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার প্রমাণ মিললে সেটিকে অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। একই সঙ্গে নাবালিকা হওয়ায় পকসো আইনের কঠোর বিধানও প্রযোজ্য হতে পারে।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও রাজ্যে নারী ও নাবালিকাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে নারী নির্যাতন, সাইবার হুমকি এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির অভিযোগ ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে।

নাবালিকার বাবা সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “আমার মেয়ে ভয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। আমরা চাই পুলিশ দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।”

অন্যদিকে, আমতলী থানার পুলিশ পরিবারের সদস্যদের আশ্বস্ত করেছে যে অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

You may also like

Leave a Comment