“আমার শরীরে আর শক্তি নেই। তাই অপমান সহ্য করেই হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসতে হয়েছে…” — কথাগুলি বলতে বলতেই চোখ ভিজে উঠছিল ৮৮ বছরের বৃদ্ধা সন্ধ্যা রানী চক্রবর্তীর। কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে তাঁর অভিযোগ, চিকিৎসার আশায় তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালে গিয়েও তাঁকে অপমান ও অবহেলার মুখোমুখি হতে হয়েছে।
এমনকি তাচ্ছিল্যের সুরে তাঁকে চিকিৎসকের কক্ষ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তথা মহকুমা স্বাস্থ্য আধিকারিক রাজা জমাতিয়া।
বৃদ্ধার দাবি, বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার চিকিৎসার জন্য তিনি হাসপাতালে যান। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করার পর চিকিৎসকের কক্ষে প্রবেশ করে নিজের অসুস্থতার কথা জানাতে শুরু করেন। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, কথা শেষ হওয়ার আগেই চিকিৎসক উচ্চস্বরে তাঁকে কক্ষ থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। শুধু তাই নয়, তাঁকে অপমানজনক ভাষায় ভর্ৎসনাও করা হয় বলে অভিযোগ করেন সন্ধ্যা রানী চক্রবর্তী।চোখের জল সামলাতে সামলাতে তিনি বলেন,
“আমি আর তর্ক করার মতো অবস্থায় নেই। শরীরও সঙ্গ দেয় না। তাই চুপচাপ বেরিয়ে আসতে হয়েছে। কিন্তু হাসপাতালে যদি রোগীদের সঙ্গেই এমন আচরণ করা হয়, তাহলে আমাদের মতো বৃদ্ধ মানুষ কোথায় যাব?”ঘটনার পর হাসপাতাল চত্বর থেকেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। সেখানে তিনি আরও বলেন, একজন চিকিৎসকের কাছ থেকে রোগীরা সহানুভূতি, ধৈর্য এবং মানবিক আচরণ প্রত্যাশা করেন। অথচ বাস্তবে যদি অপমানিত হতে হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর আস্থা ধাক্কা খাবে বলেই আশঙ্কা তাঁর।
এদিকে, স্থানীয়দের একাংশের দাবি, চিকিৎসক রাজা জমাতিয়ার বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন সময়ে রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এক রোগীর আত্মীয় অভিযোগ করে জানান, দূরদূরান্ত থেকে হাসপাতালে আসা বহু রোগীকে অনেক সময় ব্যক্তিগত চেম্বারে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় বলেও তাঁদের অভিযোগ। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর এবং তেলিয়ামুড়া বিধানসভার বিধায়িকা কল্যাণী সাহা রায় এলাকার মানুষের জন্য উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা নিশ্চিত করতে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। কিন্তু হাসপাতালের অভ্যন্তরে রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ সেই উদ্যোগের ভাবমূর্তিকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাচ্ছে।
