মধ্য কাশীপুরে ট্রিপার গাড়ির ধাক্কায় প্রৌঢ়ের মৃত্যু,
চালক পলাতক, প্রশ্নে নিরাপত্তা ও নজরদারি
নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা ৬ মে : সাত সকালে প্রাতভ্রমণে বেরিয়ে আর বাড়ি ফেরা হল না ৬৫ বছরের সন্তোষ দেবনাথের।
মধ্য কাশীপুর এলাকায় দ্রুতগতির একটি ট্রিপার গাড়ির ধাক্কায় মর্মান্তিক মৃত্যু হয় তাঁর। ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে, পাশাপাশি ট্রিপার গাড়ির বেপরোয়া গতিবিধি ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গেছে, রানীরবাজার নোয়াগাঁওয়ের বাসিন্দা সন্তোষ দেবনাথ প্রায় আড়াই বছর আগে স্ত্রীকে হারানোর পর মধ্য কাশীপুরে মেয়ের বাড়িতে এসে থাকতেন। মেয়ে ও জামাতা দুজনেই কর্মরত থাকায় নাতি-নাতনিদের দেখাশোনা, স্কুলে আনা-নেওয়া থেকে শুরু করে তাদের সঙ্গ দেওয়া, সব দায়িত্বই নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন তিনি।
পরিবারের ভরসার মানুষ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন সন্তোষবাবু। প্রতিদিনের মতো বুধবার ভোরেও তিনি প্রাতভ্রমণে বের হন। বাড়ির কাছেই একটি চায়ের দোকানে কিছু সময় কাটানো ছিল তাঁর অভ্যাস। কিন্তু সেদিন সেই অভ্যাসই শেষ যাত্রার পথে নিয়ে যায় তাঁকে।
আসাম-আগরতলা সড়ক পার হওয়ার সময় হঠাৎই দ্রুতগতিতে ছুটে আসা একটি ট্রিপার গাড়ি (নম্বর: TR 01 AW 1550) তাঁকে সজোরে ধাক্কা মারে। ধাক্কায় তিনি ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং খবর দেন তাঁর মেয়ের বাড়িতে। মেয়ের জামাতা প্রতিবেশীর সহায়তায় গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে তড়িঘড়ি করে জিবি হাসপাতালে নিয়ে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দুর্ঘটনার পর গাড়ির চালক প্রাথমিকভাবে সহযোগিতা করলেও হাসপাতালে আনার পরই সে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। চিকিৎসকেরা দ্রুত চিকিৎসা শুরু করলেও শেষরক্ষা হয়নি, কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন সন্তোষ দেবনাথ। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে।
হঠাৎ করে পরিবারের অভিভাবকস্বরূপ মানুষটিকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন তাঁর মেয়ে ও জামাতা। ঘটনার পরই স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, ভোরবেলা থেকে জাতীয় সড়কে ট্রিপার গাড়িগুলির বেপরোয়া গতি প্রায় নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কমবয়সী চালকদের হাতে এই ভারী যানবাহন থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়ে যাচ্ছে।
প্রাতভ্রমণে বের হওয়া সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখে পড়ছেন। গাড়ির নম্বর স্পষ্টভাবে জানা থাকায় অভিযুক্ত চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। একইসঙ্গে পলাতক চালকের অবিলম্বে গ্রেপ্তারি, ট্রিপার গাড়ির উপর কড়া নজরদারি, গতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ এবং সকালবেলার সময় বিশেষ ট্রাফিক তদারকির দাবিও জানাচ্ছেন স্থানীয়রা।
এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, নিয়ন্ত্রণহীন গতি ও অবহেলাই কেড়ে নিচ্ছে নিরীহ মানুষের প্রাণ। প্রশাসন কত দ্রুত পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সাধারণ মানুষ।
