শিক্ষার পবিত্র পরিবেশে ফের অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ। দক্ষিণ ত্রিপুরার সাব্রুম উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষা কেন্দ্রকে ঘিরে সামনে এল এক উদ্বেগজনক ঘটনা, যেখানে এক ছাত্রীর ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, দোলবারি হাই স্কুলের ছাত্রী রিয়া মগ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিতে এই কেন্দ্রে আসে। প্রথম চারটি পরীক্ষা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হলেও শেষ দিনের গণিত পরীক্ষায় ঘটে চরম গাফিলতি। অভিযোগ অনুযায়ী, স্ট্যান্ডার্ড প্রশ্নপত্র পাওয়ার কথা থাকলেও তাকে ভুলবশত বেসিক প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন পরীক্ষার প্রায় শেষ মুহূর্তে—মাত্র ১৫ মিনিট বাকি থাকতে—দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষিকা নিজের ভুল বুঝতে পারেন। অভিযোগ, এরপর ওই ছাত্রীর কাছ থেকে প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র কেড়ে নেওয়া হয়, ফলে সে সঠিকভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পারেনি। এর জেরে তার ফলাফল শূন্য হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষাকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা সেন্টার সুপারভাইজার প্রণব দাসের উদাসীনতা এবং সাব্রুমের পি এম শ্রী বালিকা বিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট টিচার সুতপা পালের দায়িত্বহীনতাই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী বলে অভিযোগ উঠেছে। দায়িত্বপ্রাপ্তদের একাংশ পরীক্ষার নিয়ম যথাযথভাবে পালন না করে অবহেলা করেছেন বলেও অভিযোগ।
এতেই শেষ নয়, তদন্তে নেমে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে বলে দাবি স্থানীয়দের। অভিযোগ, এই পরীক্ষা কেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরেই কিছু শিক্ষক নিজেদের বিদ্যালয়ের ছাত্রদের বিশেষ সুবিধা দিয়ে আসছেন, এমনকি পরীক্ষার সময় উত্তরপত্রে সহায়তা করার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। যদিও এই বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য মেলেনি।
অভিযোগ রয়েছে, গোটা বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এতে অভিভাবক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
একজন ছাত্রীর ভবিষ্যৎ যখন অনিশ্চয়তার মুখে, তখন এই ঘটনা শুধু একটি কেন্দ্র নয়, গোটা শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এখন দেখার, প্রশাসন এই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
