স্মার্ট সিটির রাস্তা দখল করে নির্মাণ কাজ, উদাসীন পুর কর্তৃপক্ষ
আগরতলা, ৬ মার্চ:
শুকনো মরশুম শুরু হতেই রাজধানী আগরতলার বিভিন্ন রাস্তায় বেআইনি ভাবে নির্মাণ সামগ্রী রেখে বাড়ি ও দোকান নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। রাস্তাজুড়ে ইট, বালি, সিমেন্ট, চিপস এবং মিক্সার মেশিন রেখে দিনরাত চলছে পাকা বাড়ি তৈরির কাজ। ফলে সাধারণ পথচারী থেকে শুরু করে যানবাহন চালকদের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, স্মার্ট সিটির বহু গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা কার্যত দখল করে নির্মাণ কাজ চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে ৯ বনমালীপুর কেন্দ্র, বড়জলা, খয়েরপুর এবং ৬ আগরতলা কেন্দ্রের বিভিন্ন এলাকায় এই চিত্র স্পষ্টভাবে চোখে পড়ছে। রাস্তায় নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রাখার ফলে অনেক ক্ষেত্রে যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের পর দিন এই অবস্থা চললেও আগরতলা পুর নিগমের তরফে কার্যত কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। অথচ পুর নিগমের নিজস্ব আইন অনুযায়ী রাস্তায় বেআইনি ভাবে নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রাখলে জরিমানা করা কিংবা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে মেয়র থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট কর্পোরেটর কিংবা প্রশাসনের কারও তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না বলেই অভিযোগ।
ফলে শহরের কিছু মানুষ সুযোগ নিয়ে দিনের পর দিন রাস্তা দখল করে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে সাধারণ মানুষের চলাচল যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি বাড়ছে যানজটও। শহরের ব্যস্ততম রাস্তাগুলোতেও প্রায় প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট।
স্থানীয়দের মতে, এই সমস্যা নতুন নয়। অতীতেও রাস্তায় নির্মাণ সামগ্রী ফেলে কাজ করার প্রবণতা ছিল এবং এখনও সেই একই পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে। ফলে রাজধানীর নাগরিক জীবনে এর প্রভাব পড়ছে প্রতিনিয়ত।
অনেকেই দাবি করছেন, কেউ যদি এই বিষয়ে প্রতিবাদ করেন তাহলে উল্টোভাবে সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই অধিকাংশ মানুষ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
শহরবাসীর দাবি, অবিলম্বে আগরতলা পুর নিগমের উচিত এই বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। বেআইনি ভাবে রাস্তায় নির্মাণ সামগ্রী ফেলে কাজ করলে জরিমানা ও আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তবেই রাজধানীর রাস্তা দখলমুক্ত হবে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কিছুটা হলেও কমবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
