Table of Contents
আমবাসা নাকা চেকপোস্টে কনস্টেবলের কামাই বাণিজ্য: চোরাই কাঠ-নেশা পাচারে রফা, মাস্টারমাইন্ড অঞ্জন চন্দ
আগরতলা, ১৩ নভেম্বর
ত্রিপুরার ধলাই জেলা সদর আমবাসা নাকা চেকপোস্ট আজ অবৈধ বাণিজ্যের মুক্ত কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। গত রবিবার রাতে এক বড়সড় দুর্নীতির কাহিনি সামনে এসেছে, যেখানে পুলিশের একাংশ আইন রক্ষার শপথ ভুলে টাকার কাছে আইন বিক্রি করে দিয়েছে।
মূল ঘটনা: আমবাসা থানার কনস্টেবল অঞ্জন চন্দ একটি অবৈধ কাঠবোঝাই ট্রাক আটকান। তদন্তের বদলে শুরু হয় টাকার খেলা। পাচারচক্রের মূল পান্ডা নৃপেন দেববর্মার সঙ্গে রফা হয় দেড় লক্ষ টাকার বিনিময়ে গাড়ি ছাড়ার।
অঞ্জন চন্দ রাতেই খবর দেন ডিউটির তিন সাব-ইন্সপেক্টরকে— জয় থাপা, সুশান্ত মল্লিক ও বিনয় মজুমদার। তড়িঘড়ি পৌঁছে তারা ভয় দেখিয়ে আদায় করেন ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। এর মধ্যে ৭০ হাজার টাকা একাউন্টে ট্রান্সফার, বাকি নগদ।
চোরাচালানের পুরোনো রফাদফা
সূত্রে জানা গেছে, অঞ্জন চন্দ দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ কাঠ, বার্মিজ বিড়ি, ফেনসিডিলসহ নেশাজাত দ্রব্যের গাড়ি পারাপার করাচ্ছেন মোটা অঙ্কের বিনিময়ে। ধলাই জেলা পুলিশ সুপার রদবদল করলেও অঞ্জন অপরিবর্তিত— যেন সিন্ডিকেটের ‘কন্ট্রোল রুম’।
- বিনয় মজুমদার: পুরোনো সহকর্মী, কনস্টেবল থেকে SI। দু’জনে মিলে পাচারচক্রের সঙ্গে নিয়মিত লেনদেন।
- জয় থাপা: আমবাসা থানার সেকেন্ড ওসি। তার উপস্থিতিতে চোরাচালান বেড়েছে বহুগুণে।
- সুশান্ত মল্লিক: রাতের ডিউটিতে সক্রিয়।
আমবাসা থানা এলাকা এখন নেশা ও কাঠ পাচারকারীদের স্বর্গরাজ্য। কয়েকদিন আগে একটি ফেনসিডিল ট্রাক পার করতে মোটা অঙ্ক আদায় করেছেন অঞ্জন। প্রতিদিন অসংখ্য গাড়ি অবাধে আগরতলামুখী।
CCTV ফুটেজে বন্দি দুর্নীতি
গত রবিবার রাতের ঘটনা সিসি টিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। ফুটেজ খতিয়ে দেখলেই সব স্পষ্ট হবে। থানার ওসি ইন্সপেক্টর নন্দন দাস ‘অজ্ঞ’ থাকার দাবি জনগণ বিশ্বাস করছে না।
জনগণের প্রশ্ন: “যেখানে আইনরক্ষকেরাই পাচারকারীর সঙ্গী, সেখানে নিরাপত্তা কোথায়?”
আগামী প্রতিবেদন
অঞ্জন চন্দের আরও একাধিক রফা বাণিজ্যের ফুটেজ ও টেলিফোনিক বার্তালাপ পত্রিকা অফিসে পৌঁছেছে। আগামী সংখ্যায় বড় লুটের খবর প্রকাশিত হবে।
অভিযুক্তরা: অঞ্জন চন্দ, জয় থাপা, সুশান্ত মল্লিক, বিনয় মজুমদার— বনদস্যু ও নেশার কারবারিদের অক্সিজেন জুগিয়ে চলছেন।
মহকুমা পুলিশ আধিকারিক ও জেলা পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন সুশীল নাগরিকরা। “নেশামুক্ত ত্রিপুরা”র স্বপ্ন টাকার বিনিময়ে বিক্রি হচ্ছে।
দেখার বিষয়: এই খবরে জেলা পুলিশ সুপার কী পদক্ষেপ নেন।