“ভোট চোর গদি ছোড়” রাজ্যজুড়ে কংগ্রেসের গণ-সাক্ষর

3 Min Read

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৮ নভেম্বর :
“ভোট চোর গদি ছোড়” — এই স্লোগানকে সামনে রেখে সারা দেশজুড়ে শুরু হয়েছে কংগ্রেসের ব্যাপক গণ-সাক্ষর অভিযান। ভোট-পরবর্তী অনিয়ম, প্রশাসনিক পক্ষপাত এবং গণতন্ত্র রক্ষার দাবিতে এই কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সর্বভারতীয় কংগ্রেস।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের নাগরিকদের মতামত রাষ্ট্রপতির কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহেই রাষ্ট্রপতির দরবারে পাঠানো হবে সারা দেশ থেকে সংগৃহীত কোটি কোটি স্বাক্ষর।

ত্রিপুরাতেও এই উদ্যোগ ঘিরে উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে প্রদেশ কংগ্রেসে। রাজ্যের জেলা ও ব্লক স্তরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে গণ-সাক্ষর সংগ্রহ অভিযান।

আজ আগরতলায় প্রদেশ কংগ্রেস ভবনে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে প্রদেশ সভাপতি আশিস কুমার সাহা বলেন,

“দেশজুড়ে গণতন্ত্র বিপন্ন। মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে কৃত্রিম সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে সরকার গঠন হচ্ছে। আমরা সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দেশের জনগণের মতামত রাষ্ট্রপতির কাছে পৌঁছে দেব।”

তিনি জানান, চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সংগৃহীত সমস্ত স্বাক্ষর কেন্দ্রীয় কমিটির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে।

অভিযানে ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে হাজারো মানুষ অংশ নিয়েছেন বলে জানান আশিস সাহা।

বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন বলেন,

“নির্বাচন কমিশন বিজেপির সহযোগী সংগঠনের মতো আচরণ করছে। সরকার প্রশাসনের সাহায্যে ভোট চুরি করছে। কিন্তু জনগণ সবকিছু দেখছে — বিহারের ভোট দিয়েই চোর সরকারের গদিচ্যুতি ঘটবে।”


🏛️ আদিবাসী কংগ্রেস নেতৃত্বদের বৈঠক

এদিন প্রদেশ কংগ্রেস ভবনে রাজ্যের আদিবাসী নেতৃত্বদের নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আলোচিত হয়, স্বশাসিত জেলা পরিষদ (ADC) এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রাম সরকার নির্বাচন স্থগিত থাকার ফলে প্রশাসনিক অচলাবস্থা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

প্রদেশ সভাপতি আশিস সাহা বলেন,

“ষষ্ঠ তফসিলের মূল উদ্দেশ্য ছিল আদিবাসী সমাজের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন। কিন্তু রাজ্য ও কেন্দ্র উভয় সরকারই সেই পথ থেকে সরে এসেছে।”

তিনি উল্লেখ করেন, ২০১২ সালে ইউপিএ সরকারের আমলে সংবিধানের ১২৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে স্বশাসিত জেলা পরিষদে ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ব্যবস্থা ও টাউন কমিটি গঠনের প্রস্তাব আনা হলেও তা আজও কার্যকর হয়নি।

কংগ্রেসের অভিযোগ, মোদী নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্যের তথাকথিত ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার এই বিষয়ে নীরব। ফলে আদিবাসী সমাজ ক্রমে পিছিয়ে পড়ছে।

বৈঠকে উপস্থিত কংগ্রেস নেতারা বলেন, অতীতে আঞ্চলিক দলগুলির প্রতি যে আস্থা আদিবাসীরা দেখিয়েছিলেন, তা এখন ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বহু আদিবাসী নাগরিক কংগ্রেসে যোগদান করছেন এবং সংগঠন নতুন করে শক্তি পাচ্ছে।

প্রদেশ সভাপতি আশিস সাহা বলেন,

“কংগ্রেসই একমাত্র দল যা ষষ্ঠ তফসিলের আত্মাকে রক্ষা করতে এবং সত্যিকারের স্বশাসনের পরিবেশ তৈরি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

রাজ্য রাজনীতির বিশ্লেষক মহল মনে করছে, কংগ্রেসের এই উদ্যোগ রাজ্যের আসন্ন গ্রাম সরকার নির্বাচনের প্রাক্কালে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version