জনজাতি আবেগে নতুন রাজনৈতিক চাল প্রদ্যোতের, অবসরপ্রাপ্ত জনজাতি কর্মচারীদের নিয়ে বৈঠক

ত্রিপুরার রাজনীতিতে জনজাতি আবেগের রাজনীতি নতুন কিছু নয়। তবে সেই আবেগকে হাতিয়ার করে নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার যে চেষ্টায় বারবার নেমেছেন তিপ্রা মথা সুপ্রিমো প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মন — তা এখন আরও স্পষ্টভাবে প্রকাশ্যে এসেছে। সম্প্রতি তিনি “ওয়ান নর্থ ইস্ট” নামে এক নতুন আঞ্চলিক মঞ্চ তৈরির ডাক দিয়েছেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জনজাতি নেতাদের এক ছাতার নিচে আনার লক্ষ্যে।
নতুন মঞ্চ: জনগণের উন্নয়ন না রাজনৈতিক কৌশল?
রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে—এই উদ্যোগ কি সত্যিই জনজাতি সমাজের উন্নয়নচিন্তা নিয়ে, নাকি প্রদ্যোতের রাজনৈতিক প্রভাব পুনরুদ্ধারের কৌশল? পর্যবেক্ষকদের মতে, “ওয়ান নর্থ ইস্ট” উদ্যোগটি অনেকাংশে প্রদ্যোতের পুরনো কৌশলকে নতুন নামে সাজানোর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রদ্যোতের বক্তব্য
মিডিয়ার সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রদ্যোত কিশোর বলেন,
“উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের মানুষকে আর দিল্লিনির্ভর রাজনীতির বন্দি হয়ে থাকা উচিত নয়। নিজেদের ভাগ্য নিজেদেরই লিখতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, স্কুলের শিক্ষাক্রমে উত্তর-পূর্বের ইতিহাস ও সংস্কৃতি পর্যাপ্তভাবে প্রতিফলিত হয় না—এখন সময় এসেছে আঞ্চলিক ঐক্যে বিশ্বাসী নতুন রাজনৈতিক মডেল গড়ার।
উপজাতি-বাঙালি বিষয়ক সতর্কবার্তা
উপজাতি-বাঙালি বিভাজনকে রাজ্যকে দুর্বল করার একটি বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করে প্রদ্যোত বলেন, “আমাদের একে অপরকে শত্রু নয়, সহযোদ্ধা হিসেবে দেখতে হবে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন ঐক্য, স্বনির্ভরতা ও সাংস্কৃতিক আত্মসম্মানের উপর ভিত্তি করে নতুন রাজনীতি প্রয়োজন।
অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের নিয়ে বৈঠক
বৃহস্পতিবার রাজ্যের বিভিন্ন দপ্তরের অবসরপ্রাপ্ত জনজাতি কর্মচারীদের নিয়ে প্রদ্যোত একটি বৈঠক করেন। সূত্রে জানা গেছে, তিনি এই প্রাক্তন কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি বিশেষ “সেল” গঠনের পরিকল্পনা করছেন — প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও প্রভাবশালী সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে জনজাতি সমাজে পুনরায় প্রভাব বিস্তারই হচ্ছে উদ্দেশ্য, এমনটাই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
সমালোচনা ও বিশ্লেষণ
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, প্রদ্যোতের এই পদক্ষেপটি একটি রাজনৈতিক ব্র্যান্ডিং কৌশল—নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে হারানো জমি ফিরে পাওয়ার চেষ্টা। তাদে্যর মতে, প্রদ্যোতের রাজনৈতি ক্রমে ব্যক্তিগত পান্ডিত্য ও রাজকীয় ভাবমূর্তি গঠনে বেশি নজরী, যখন মাটির মানুষের বাস্তব সমস্যা—উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও শিক্ষা—তাতে পর্যাপ্ত জীবনরেখা পাচ্ছে না।
শেষ কথা
ত্রিপুরার রাজনীতি এখন এমন এক মোড়ে দাঁড়িয়েছে যেখানে জনগণ উন্নয়ন ও জীবনমানের পরিবর্তন চাইছে—কেবল আবেগীয় রাজনীতিকেই নয়। প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মনের নবউদ্যোগ কতটা জনস্বার্থে ফলপ্রসূ হবে, আর কতটা ব্যক্তিগত রাজনৈতিক কৌশল—এ প্রশ্নের উত্তর সময়ই দেবে।