আইনগত পদক্ষেপ, নাকি বিরোধীদের কণ্ঠরোধ।

2 Min Read

বিজেপি সন্ত্রাস ও মাধবী বিশ্বাসের গ্রেফতারি: ত্রিপুরার রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক

ত্রিপুরা রাজ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা যেন প্রতিনিয়ত নতুন রূপ নিচ্ছে। রাজ্যের বর্তমান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন একমাত্র নাম — মাধবী বিশ্বাস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করার “অপরাধে” গ্রেপ্তার হওয়া এই তরুণী কনটেন্ট ক্রিয়েটরের ঘটনায় জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার মাধবী বিশ্বাসকে ত্রিপুরা পুলিশ গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে। আদালতের নির্দেশে তাঁকে তিন দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেওয়া হয়। তিনদিনের রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার পুনরায় আদালতে তোলা হলে, পুলিশের তরফে আরও পাঁচ দিনের জেল হেফাজতের আবেদন জানানো হয়।

মাধবীর পক্ষে আইনজীবী পুরুষোত্তম রায় বর্মন সংবাদমাধ্যমকে জানান,

“আমরা আশাবাদী, মাধবী খুব শীঘ্রই মুক্তি পাবে। পুলিশের অভিযোগের ভিত্তি দুর্বল, এবং মামলাটি আইনি পরীক্ষায় টিকবে না।”

আইনজীবীর দাবি অনুযায়ী, মাধবী বিশ্বাস প্রকাশ্য আদালতে অভিযোগ করেছেন — পুলিশের তরফে তাঁকে বারবার সিপিআইএম ও কংগ্রেসের কিছু নেতার নাম বলার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক মহলে এখন প্রশ্ন উঠছে — এটি কি শুধুই একটি আইনগত পদক্ষেপ, নাকি সরকারবিরোধী কণ্ঠরোধের নতুন অধ্যায়?

ত্রিপুরার বিরোধী দলগুলির দাবি, এই গ্রেফতারির মাধ্যমে বিজেপি সরকার “গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ” করতে চাইছে। অন্যদিকে, শাসকদল এখনো এই অভিযোগের বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।

মাধবী বিশ্বাসের ঘটনা এখন শুধু একটি ব্যক্তিগত গ্রেফতার নয় — এটি ত্রিপুরার রাজনৈতিক বাস্তবতার এক প্রতিচ্ছবি। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, প্রশাসনিক চাপ, এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা— এই তিন উপাদান যেন আবারও সামনে এসে দাঁড়িয়েছে।

রাজ্যের নাগরিকদের মধ্যে একটাই প্রশ্ন প্রতিধ্বনিত হচ্ছে:
👉 ত্রিপুরা কি আবারও ভয় ও নিপীড়নের রাজনীতিতে ডুবে যাচ্ছে?

মাধবী বিশ্বাসের মুক্তি বা মামলার পরিণতি যাই হোক না কেন, এই ঘটনাটি নিঃসন্দেহে ত্রিপুরার রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয় — প্রশাসন সত্যিই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে, নাকি রাজনৈতিক স্বার্থই শেষ পর্যন্ত প্রাধান্য পায়।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version