প্রদ্যোত কিশোরের দ্বিচারিতা নিয়ে জিতেন্দ্রর কটাক্ষ

2 Min Read

‘গাছেরও খাবো, তলারও খাবো’ নীতিতে প্রদ্যোত কিশোর — জিতেন্দ্র চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৫ অক্টোবর :
তিপ্রাসা মুখ্যমন্ত্রী ইস্যুতে মুখ খুললেন বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “প্রদ্যোত কিশোর গাছেরও খাবেন, তলারও খাবেন — রাজনীতিতে এই দ্বিচারিতা স্পষ্ট।”

তিপরা মথা সুপ্রিমো প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মা সম্প্রতি দাবি করেছেন, ২০২৮ সালে ত্রিপুরায় একজন তিপ্রাসা মুখ্যমন্ত্রী হওয়া উচিত। সেই মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়।

জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, “ভারতের সংবিধান অনুযায়ী যে কেউ— ভাষা, ধর্ম বা জাতি নির্বিশেষে— রাজনৈতিক ক্ষমতায় আসীন হতে পারেন। শিখ প্রধানমন্ত্রী, মুসলিম রাষ্ট্রপতি বা অনগ্রসর সম্প্রদায়ের রাষ্ট্রপতি এই দেশের গর্ব। ফলে তিপ্রাসা মুখ্যমন্ত্রী হওয়া অগণতান্ত্রিক নয়। কিন্তু যেভাবে বিদ্বেষমূলক ভঙ্গিতে এই দাবি তোলা হয়েছে, তা বিপজ্জনক প্রবণতা।”

তিনি তিপরা মথা সুপ্রিমোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “প্রদ্যোত কিশোর একদিকে রাজ্য সরকারের শরিক, অন্যদিকে এডিসির ক্ষমতাসীন দল। কখনো সরকারের বিরোধিতা, আবার কখনো বিজেপি নেতাদের সঙ্গে নৈশভোজ — এই দ্বিচারিতা জনগণের চোখ এড়াচ্ছে না।”

জিতেন্দ্র চৌধুরী আরও বলেন, “এখন এডিসি ও রাজ্য সরকারের মধ্যে চলছে ‘কম্পিটিশন ফর করাপশন’। কখনো ‘গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ড’, কখনো ‘লাস্ট ওয়ান ফাইট’, কখনো ‘তিপ্রাসা চুক্তি’— প্রদ্যোত কিশোরের নিজস্ব স্লোগান। কিন্তু সবই আত্মপ্রচারের কৌশল।”

বামফ্রন্ট সরকারের আমলে তিপ্রাসা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দশরথ দেবের উদাহরণ টেনে বিরোধী দলনেতা বলেন, “তিপ্রাসা মুখ্যমন্ত্রী হওয়া অসম্ভব নয়। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রদ্যোত কিশোর নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে অগণতান্ত্রিক মন্তব্য করছেন।”

শেষে তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “প্রদ্যোত কিশোর, বিজেপি ও তিপরা মথা এখন দুর্নীতির ত্রিমূর্তি। জনগণ তাদের উদ্দেশ্য বুঝে গেছে। সময় এলে মানুষই ঠিক করবেন মুখ্যমন্ত্রী হবেন তিপ্রাসা না ওয়ানসা।”

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version