বৃহৎ প্রতিবাদ: বিশাখা সরকারের হত্যার ন্যায়বিচার চাই

4 Min Read

বোধজংনগর এলাকায় বিশাখা সরকার হত্যার প্রতিবাদে নারী সমিতির মিছিল, পুলিশ সুপারের নিকট ডেপুটেশান

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা ১৫ অক্টোবর : মাত্র হাজার টাকার বচসায় প্রথমে নিখোজ হওয়া পরে জঙ্গল থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া এক সন্তানের জননী বিশাখা সরকারের মৃত্যু পুরোপুরি পরিকল্পিত খুন। এই ঘটনার সাথে প্রতিবেশি লক্ষী বিশ্বাস ও বিশু বর্ধনের নাম জড়িয়ে পড়েছে। বিশাখা সরকারের পরিবার ও স্থানীয় মানুষের দাবী তারাই পরিকল্পিতভাবে খুব করেছে বিশাখা সরকারকে। এই ঘটনার সঠিক তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবীতে বুধবার আগরতলা শহরের রাজপথে সারা জাগানো প্রতিবাদ মিছিল সংগঠিত করে সারা ভারত গনতান্ত্রিক নারী সমিতি।

মেলারমাঠ থেকে মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে নারী মিছিলটি। সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে নারী নেত্রী রমা দাস বলেন, একোন সুশাসনে বাস করছি আমরা ?? যেখানে প্রতিদিন নারীরা নির্যাতিত, অত্যাচারিত, খুন ধর্ষনের স্বিকার হচ্ছে। পুলিশ শাসক দলের দাসত্বের শৃঙ্খল পায়ে পড়ে, সমাজদ্রোহীদের হাতে ছেড়ে দিয়েছে প্রশাসন। খোদ রাজধানী শহরে গত এক সপ্তাহে আধ ডজন নারী সংক্রান্ত ঘটনা ঘটেছে কিন্তু একটি ক্ষেত্রেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করার সাহস দেখায়নি। প্রতিদিন নাবালিকা ধর্ষন, গৃহবধূ খুন, স্কুল ছাত্রীদের প্রকাশ্যে দিনের আলোয় শ্লিলতাহানী করছে সমাজদ্রোহীরা।

সম্প্রতিকালের ঘটনার মধ্যে রয়েছে ১৪ মাসের শিশু কন্যা ধর্ষন শেষে খুন, আগরতলায় চাঁদা চাইতে গিয়ে বিজেপির বুথ সভাপতি দ্বারা আবাসনের মহিলা তার স্বামী ও দুই কন্যা সন্তান আক্রান্তের ঘটনা। এই সব ঘটনাকি রাজ্যের শিক্ষিত মুখ্যমন্ত্রী সাহেবের চোখে পড়ে না। নাকি এটাই সুশাসন যার ক্যাসেট রাজ্যের সর্বত্র বাজিয়ে ঘুরছেন তিনি বলে প্রশ্ন তোলেন নারী নেত্রি রমা দাস। গলে বোধজংনগরের বিশাখা সরকারের মৃত্যূ এর বাইরে নয়, মাত্র ১ হাজার টাকার হিসেব নিয়ে গড়মিলের কারনে তার হত্যা করা হয়েছে।

এই ঘটনা যারা সংগঠিত করেছে তাদের নামে আগেই অভিযোগ করা হয়েছে পরিবারের তরফে কিন্তু পুলিশ সঠিক পদক্ষেপ নেয়নি। যার ফলশ্রুতিতে বিশাখা সরকার আজ নেই। তার একটি ছোট্ট শিশু সন্তান রয়েছে পরিবারে। সন্তানটি মাতৃহারা হলো এর দ্বায়ভার কে নেবে, সুতরাং এই ঘটনার সাথে জড়িত প্রত্যেককে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে হবে। দোষীদের চুরান্ত শাস্তির বিধান নিশ্চিত করতে হবে, আর তা নাহলে গনতান্ত্রিক নারী সমিতি মাঠে আছে,মাঠে থেকেই নারীদের অধিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লড়াই চালিয়ে যাবে৷ শাসক দল, তাদের নেতা, মন্ত্রী ও প্রশাসনকে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাধ্য করা হবে৷ প্রকৃত আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে নারীরা প্রয়োজনে অস্ত্র হাতে শত্রুর মোকাবেলা করতেও পিছুপা হবে না বলেও মত ব্যাক্ত করেন বর্ষিয়ান নারী নেত্রী রমা দাস।

এদিকে এই ঘটনায় যুক্ত সকল অপরাধীদের দ্রুত খোজে বের করে শাস্তি প্রদানের দাবীতে পশ্চিম জেলা পুলিশ সুপারের,দারস্ত হন সারা ভারত গনতান্ত্রিক নারী সমিতির জিরানীয়া মহকুমা কমিটি। প্রসঙ্গত, চার দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর গতকাল বিকেলে বিশাখা সরকারের মৃতদেহ উদ্ধার হয় কালী টিলার জঙ্গল থেকে। পরিবারসহ এলাকাবাসীর দাবি বিশাখা সরকার কে খুন করা হয়েছে। তারই প্রতিবাদে আজ সারা ভারত গণতান্ত্রিক নারী সমিতি জিরানিয়া মহকুমা কমিটির উদ্যোগে পুলিশ হেডকোয়ার্টারে পশ্চিম ত্রিপুরা পুলিশ সুপারের নিকট ডেপুটেশন প্রদান করা হয়।

এই ঘটনার সঠিক তদন্তমূলে দোষীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্ত্রের দাবি জানিয়েছেন গণতান্ত্রিক নারী সমিতির নেত্রীরা। গত ১১ অক্টোবর সকালে আরকে নগর এলাকার কালীটিলা এলাকার শ্রমজীবী মহিলা কর্মী বিশাখা সরকার(৩২) কে বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়ে এলাকায়ই লক্ষ্মী বিশ্বাস মালিকের বাড়িতে যান। সেখানে হাত পা বেঁধে মারধর করা হয় তাকে।

এরপর থেকে বিশাখা সরকারের খোঁজ পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন জায়গায় অনেক খোঁজ করেও পরিবারের লোকজন এবং এলাকাবাসী বিশাখা সরকারকে উদ্ধার করতে পারেনি । পরে গতকাল তার মৃতদেহ উদ্ধার হয় ঝুলন্ত অবস্থায়। ঘটনার মূল অভিযুক্ত লক্ষ্মী বিশ্বাস বর্তমানে পলাতক। এই বিষয়ে পুলিশ সুপার নারী নেত্রীদের আশ্বস্ত করেছেন।

পুলিশ তদন্ত প্রক্রিয়ায় গতি আনছে, সহসাই ঘটনার মুল অভিযুক্ত পুলিশের জালে ধরা পরবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার। অপরাধীদের কিছুতেই ছাড়া হবে না বলে আশ্বস্ত করেছেব জেলা পুলিশ সুপার বলে জানিয়েছেন নারী সমিতির নেতৃত্বরা।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version