সোর্স মানি মন্ত্রী সুধাংশুকে বরখাস্তের দাবী

6 Min Read

দুর্নীতির অতল সাগরে নিমজ্জিত মন্ত্রী সুধাংশু দাস, অবিলম্বে বরখাস্ত করা উচিত :

জিতেন্দ্র চৌধুরী, একই দাবীতে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি আশিস সাহার

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা ১৫ অক্টোবর : রাজনৈতিক ক্যারিয়ার সবেমাত্র শুরু, এরই মাঝে মন্ত্রীত্ব পেয়ে নিজেকে বিশাল মাপের কিছু মনে করছেন মন্ত্রী সুধাংশ দাস। মাত্র আড়াই তিন বছরের মন্ত্রী এরই মধ্যে বারংবার রাজ্য এবং দেশের বিভিন্ন বিষয়ে আবুল তাবুল বকেছেন তিনি।

বাম আমলে বিপিএল পরিবার ভুক্ত মন্ত্রির পরিবার তার ভাই বর্তমানে রাজ্যের সর্বোচ্চ করদাতা। এর থেকেই তো বোঝা যায় কত কোটি কোটি টাকা বাকা পথে কামাই করেছেন মন্ত্রী বাহাদুর ও তার ভাই। সুতরাং বিজেপি নেতৃত্ব ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নৈতিকতা নিয়ে তাকে এই মহুর্তে মন্ত্রীত্ব থেকে বরখাস্ত করা উচিত। মন্ত্রী সোর্স ইনকাম নিয়ে এভাবেই প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা সিপিআইএম পলিটব্যুরো সদস্য জিতেন্দ্র চৌধুরী। এদিন সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে বিরোধী দলনেতা আরও বলেন দুর্নীতির অতল,সাগরে ভাসছেন মন্ত্রী সুধাংশু দাস।

অবিলম্বে তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে বরখাস্ত করা হোক। তিনি বলেন, মন্ত্রী নিজেই স্বীকার করেছেন তিনি বিভিন্ন ‘সোর্স’ থেকে টাকা গ্রহণ করেন। এমনকি দাবি করেছেন, মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যরাও একই কাজ করে থাকেন। যদিও তিনি একে ঘুষ বলতে চাননি, বরং ‘প্রণামী’ বা ‘নৈবেদ্য’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। এই বক্তব্য ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। বিরোধী দলনেতার দাবি, সুধাংশু দাসের বড় ভাই বর্তমানে রাজ্যের শীর্ষ করদাতাদের মধ্যে একজন হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। অথচ মাত্র কয়েক বছর আগেই তাঁদের পরিবার ছিল বিপিএল তালিকাভুক্ত।

অবৈধ পন্থায় অর্থ উপার্জন ছাড়া এই পরিবর্তন সম্ভব নয়। শ্রী চৌধুরী বলেন, গত সাত বছরে মন্ত্রী সুধাংশু দাসের বিরুদ্ধে বিধানসভার ভিতরে এবং বাইরে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ তদন্তের জন্যও সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন তিনি। শেষে তিনি বলেন, রাজ্যে প্রশাসনিক শুদ্ধতা বজায় রাখতে হলে, এ ধরনের দুর্নীতিগ্রস্ত মন্ত্রীদের অবিলম্বে পদচ্যুত করা প্রয়োজন, অবশ্য মন্ত্রী সুধাংশু দাস প্রকারান্তরে বিজেপির সকল মন্ত্রীদের চেহারাই প্রকাশ্যে তুলে ধরেছেন।

তাদের দলের স্লোগাই হচ্ছে সবকা সাথ খোদকা বিকাশ। আমরা যে বলি বহিরাজ্য থেকে ঠিকেদারদের এনে কোটি কোটি টাকার কাজের বরাত দেওয়া হচ্ছে, এর পেছনে আসল রহশ্য হচ্ছে এই সোর্স মানি। মন্ত্রী এদিন কথার জালে পরে তা প্রকাশ্যেই স্বিকার করলেন। গোটা রাজ্যজুড়েই এই সোর্স মানি ইনকামের প্রতিযোগিতা চলছে, তাদের কাছে জনগনের স্বার্থ বলতে কিছু নেই। এই সরকারের মন্ত্রীরাও জানেন মানুষ তাদের কখন ছুড়ে ফেলে দেয় তার নিশ্চয়তা নেই ফলে লুটের রাজত্ব কায়েম করছেন তারা। আর এই মন্ত্রী সুধাংশুতো মানবতা বিরোধী, কখনো হিন্দি আর হিন্দুত্ব নিয়ে সমাজে বিষ ছড়ানোর কাজ করেছেন তো কখনো জাতি জনজাতিতে ফাটল ধরানোর কাজই তিনি দক্ষতার সাথে করে আসছেন। ফলে তার বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহন করা সময়ের দাবী।

যে মন্ত্রী সংবিধানের নামে শপথ নিয়ে জনগনের অর্থ লুট করে সে মন্ত্রী হিসেবে থাকার কোনো অধিকার নেই, ফলে অবিলম্বে তার মন্ত্রীসভা থেকে অপসারনের তীব্র জানায় বামফ্রন্ট বলে জানান বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। অন্যদিকে একই দাবী জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশিস কুমার সাহা। চিঠিতে আশিস সাহা লিখেন যে, রাজ্যবাসীর সাথে সাথে আপনিও নিশ্চয়ই অবগত হয়েছেন যে, আপনার মন্ত্রিসভার অন্যতম সদস্য মন্ত্রী সুধাংশু দাস রাজ্যের একটি সংবাদমাধ্যমে খোলামেলাভাবেই স্বীকার করে নিয়েছেন উনি স্বয়ং নানা সোর্স থেকে টাকা নিয়ে থাকেন এবং সরকারের অন্যান্য মন্ত্রীরাও তা করে থাকেন। যদিও উনি এটাকে ঘুষ বলতে চাননি, তা প্রণামী বা নৈবদ্য বলেছেন। যাই হোক এটা যে আইনত দুর্নীতিমূলক একটা গুরুতর অপরাধ তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

এই বিষয়টা গত ১৪ই অক্টোবর রাজ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রভাতী দৈনিক প্রথম পাতায় গুরুত্ব সহকারে যেমন প্রকাশিত হয়, তেমনি বিভিন্ন বৈদ্যুতিন সংবাদ মাধ্যমেও প্রকাশ পায়৷ কিন্তু এই বিষয়টিতে মন্ত্রীর তরফ থেকেও এর কোনও বিরোধিতা করা হয়নি। যদিও তার সুযোগও তেমন নেই। কারণ এই স্বীকারোক্তির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ এই মন্ত্রী এবং তার পরিবার ২০১৮ সালের পূর্বে বিপিএল ভুক্ত ছিল। পাঁচ বছরের শাসক দলের বিধায়ক ও দুই বছরের মন্ত্রীর সুবাদে শুধু মন্ত্রীর বাসস্থান এলাকায় নয়, উত্তর জেলা সহ রাজ্যের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় মন্ত্রী, তার সহোদর ও অন্যান্য সদস্যদের নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার সম্পদের তথ্য সম্বলিত প্রমাণ, অভিযোগ ইত্যাদি খবরাখবর প্রচারিত হওয়ার পরেও দেশের ইডি, আইটি, সিবিআই তো দূরস্থ রাজ্যের সুশাসনের সরকারের সর্বময় কর্তারও টু শব্দটি নেই।থাকবেই বা কি করে, বিজেপি নামক দলটাই তো আজ আস্ত বড় একটা ‘ওয়াশিং মেশিন’। তাই তো স্বয়ং এই মন্ত্রী নিজ সম্পর্কে দুর্নীতিমূলক কাজকে আইনি রূপ দেওয়ার চেষ্টা সহ মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যদেরও একইভাবে জড়িত থাকার কথা সত্বেও আপনি নিজেও নীরব ? রাজ্যবাসীর সাথে সাথে আমার নজরে আসার পর আমি আশা করেছিলাম এই গুরুতর আর্থিক অপরাধে জড়িত থাকার বিষয়টি হয়তো তাৎক্ষণিকভাবেই সংবিধানের পবিত্রতা রক্ষার স্বার্থে তাকে বরখাস্ত করে, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

পাশাপাশি মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যদের এমনতর ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয় (যা শুধু মন্ত্রীর স্বীকারোক্তি নয়, তাদের অনেকেরই এই স্বল্প সময়ে অগাধ সম্পত্তির মালিক বনে যাওয়া) নিয়েও তদন্তকার্য শুরু করার কোনও উদ্যোগই না থাকার ফলে আমি বাধ্য হয়ে প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে আপনার নিকট জোর দাবি করছি, আর কোনওরূপ কালবিলম্ব না করে মন্ত্রী সুধাংশু দাসকে অবিলম্বে মন্ত্রিসভা থেকে বরখাস্ত করে তার ও তার পরিবারের এই অস্বাভাবিক আর্থিক শ্রীবৃদ্ধির উৎসের সঠিক তদন্তক্রমে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। সাথে সাথে অন্যান্য মন্ত্রীদের সম্পর্কেও সঠিক তদন্তক্রমে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের। নয়তো বা এখনও রাজ্যের মানুষের দেশের সংবিধান, সরকার ও আইনের প্রতি যেটুকু বিশ্বাস অবশিষ্ট আছে তাও চলে যাবে। আমি আশাবাদী, রাজ্য এবং রাজ্যবাসীর স্বার্থে আপনি আপনার পদমর্যাদা রক্ষায় এই ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। এই বিষয়টি জানিয়ে এদিন মিডিয়াকেও সম্বোধন করেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশিস কুমার সাহা।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version