রানি কমলাপতি–আগরতলা স্পেশাল এক্সপ্রেসে এলএইচবি কোচ, ত্রিপুরার রেল পরিষেবায় আরও এক বড় পদক্ষেপ
নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা 10 জুলাই : ত্রিপুরার রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব করে তুলতে ভারতীয় রেল আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহন করলো। আগামী ২৩ জুলাই থেকে রানি কমলাপতি (ভোপাল)–আগরতলা স্পেশাল এক্সপ্রেসে অত্যাধুনিক এলএইচবি (Linke Hofmann Busch) কোচ সংযোজন করা হচ্ছে। ফিরতি পথে আগরতলা থেকে রানি কমলাপতি অভিমুখী ট্রেনেও ২৬ জুলাই থেকে এই নতুন কোচ চালু হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘপথের যাত্রীদের ভ্রমণ আরও আরামদায়ক, নিরাপদ এবং আধুনিক হবে।
রেল সূত্রে জানা গেছে, এতদিন ট্রেনটি পুরনো আইসিএফ কোচে চলাচল করলেও এবার সেই জায়গায় আসছে জার্মান প্রযুক্তিনির্ভর এলএইচবি রেক। আধুনিক এই কোচগুলি শুধু আরামদায়ক নয়, নিরাপত্তার দিক থেকেও অনেক উন্নত। উন্নত ব্রেকিং ব্যবস্থা, দুর্ঘটনার সময় কোচ একটির উপর আরেকটি উঠে যাওয়ার সম্ভাবনা কম, কম্পন ও ঝাঁকুনি তুলনামূলকভাবে অনেক কম হওয়ায় দীর্ঘ সফরও হবে অনেক স্বস্তিদায়ক। রানি কমলাপতি–আগরতলা ট্রেনটি ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রদেশ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেল সংযোগ হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি এই ট্রেনকে স্থায়ী এক্সপ্রেস পরিষেবার মর্যাদা দেওয়ার পর এবার এলএইচবি কোচ সংযোজন সেই পরিষেবাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল। এর ফলে ত্রিপুরার সঙ্গে দেশের মধ্যাঞ্চলের যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে এবং যাত্রীদের দীর্ঘদিনের আধুনিক কোচের দাবি বাস্তবায়িত হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এলএইচবি কোচের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল উচ্চগতিতেও স্থিতিশীল চলাচল, উন্নত সাসপেনশন ব্যবস্থা, কম শব্দ, আরামদায়ক যাত্রা এবং আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা প্রযুক্তি। ফলে দীর্ঘ দূরত্বের ট্রেনে যাত্রীদের ক্লান্তি কমবে এবং ভ্রমণের মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, গত কয়েক বছরে ত্রিপুরার রেল পরিষেবায় ধারাবাহিক উন্নয়নের চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। নতুন ট্রেন পরিষেবা চালু, বিভিন্ন ট্রেনকে নিয়মিত পরিষেবায় অন্তর্ভুক্ত করা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং এখন এলএইচবি কোচ সংযোজন, সব মিলিয়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চল, বিশেষ করে ত্রিপুরাকে জাতীয় রেল নেটওয়ার্কে আরও শক্তিশালীভাবে যুক্ত করার ক্ষেত্রে কেন্দ্রের অগ্রাধিকার স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এর ফলে শুধু যাত্রী পরিবহণ নয়, ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন এবং সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
রেল কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগে যাত্রীদের মধ্যে ইতিমধ্যেই উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে।তাঁদের আশা, ভবিষ্যতেও ত্রিপুরার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দূরপাল্লার ট্রেনেও পর্যায়ক্রমে এলএইচবি কোচ সংযোজন এবং আরও আধুনিক রেল পরিষেবা চালু করা হবে, যাতে রাজ্যের মানুষ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আরও উন্নত ও নিরাপদ রেল যাত্রার সুবিধা পান।