দমকলের গাফিলতির অভিযোগে ক্ষোভ, আগুনে ভস্মীভূত সাব্রুমের সিংটিলার এক বাড়ি
নিজস্ব প্রতিনিধি | সাব্রুম | ১৯ জুন
দক্ষিণ ত্রিপুরার সাব্রুম মহকুমার দমদমা গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত সিংটিলা এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সম্পূর্ণরূপে পুড়ে ছাই হয়ে গেল দেবাশিস মজুমদারের বসতবাড়ি। শুক্রবার সকালে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একইসঙ্গে দমকল বিভাগের বিরুদ্ধে বিলম্বে ঘটনাস্থলে পৌঁছানো এবং অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামের ত্রুটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।
জানা গেছে, শুক্রবার সকালে বাড়ির একটি ঘর থেকে ধোঁয়া ও আগুন বের হতে দেখে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পান। সঙ্গে সঙ্গেই সাব্রুম অগ্নিনির্বাপক দপ্তরে খবর দেওয়া হয়। অভিযোগ, বাড়ি থেকে দমকল অফিসের দূরত্ব ৫০০ মিটারেরও কম হলেও দমকলকর্মীরা সময়মতো ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেননি। ফলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে গোটা বাড়িকে গ্রাস করে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি, দমকল বাহিনী দ্রুত পৌঁছালে আগুন প্রাথমিক পর্যায়েই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হতো এবং এত বড় ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো যেত। আরও অভিযোগ, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর দমকলের গাড়ি থেকে সংযুক্ত করা জল সরবরাহের পাইপ একাধিকবার ফেটে যায়। অল্প সময়ের মধ্যেই গাড়ির জলও শেষ হয়ে যায়, যার ফলে আগুন নেভানোর কাজে বিঘ্ন ঘটে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে পরবর্তীতে মনুবাজার থেকে আরও একটি দমকল ইঞ্জিন আনা হয়। দীর্ঘ প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাড়ির একটি কক্ষে বিপুল পরিমাণ রাবার মজুত ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সেই ঘরেই প্রথম আগুনের সূত্রপাত ঘটে এবং সেখান থেকে দ্রুত পুরো বাড়িতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
আগুনে বাড়ির সামনে রাখা একটি মোটরসাইকেল ও একটি চারচাকা গাড়িও সম্পূর্ণরূপে পুড়ে যায়। ফলে কয়েক লক্ষ টাকার সম্পত্তি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে।
ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে আশপাশে। সম্ভাব্য বিপদের আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের ঘর থেকে মূল্যবান সামগ্রী সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যেতে শুরু করেন।
ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এবং এলাকাবাসী দমকল বিভাগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং দমকল বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে স্থানীয় মহলে।