Home » Blog » খারচি মেলার প্রস্তুতি শুরু, চতুর্দশ দেবতা মন্দিরে প্রশাসন

খারচি মেলার প্রস্তুতি শুরু, চতুর্দশ দেবতা মন্দিরে প্রশাসন

খয়েরপুরে পরিদর্শনে জেলা প্রশাসন; নিরাপত্তা, স্যানিটেশন, জল নিষ্কাশন ও অবকাঠামো উন্নয়নে জোর।

by Planet Tripura
0 comments 133 views

খারচি মেলাকে সামনে রেখে প্রস্তুতি শুরু, চতুর্দশ দেবতা মন্দির পরিদর্শনে প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা : ত্রিপুরার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসব খারচি পূজা ও মেলাকে সামনে রেখে প্রস্তুতি শুরু করেছে প্রশাসন। আসন্ন খারচি মেলা উপলক্ষে প্রস্তুতির বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখতে বুধবার খয়েরপুরস্থিত চতুর্দশ দেবতার মন্দির পরিদর্শন করেন পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল।

তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলাশাসক দেবদাস দেববর্মা, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির আধিকারিক এবং অন্যান্য প্রশাসনিক প্রতিনিধিরা। পরিদর্শনকালে মন্দির চত্বর, দর্শনার্থীদের চলাচলের পথ, পানীয় জল, স্যানিটেশন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন পরিকাঠামোগত বিষয় খতিয়ে দেখা হয়। মেলা উপলক্ষে বিপুল সংখ্যক ভক্ত ও পর্যটকের আগমনকে মাথায় রেখে কোথায় কী ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ প্রয়োজন, তা চিহ্নিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে দ্রুত সমস্যাগুলির সমাধানে উদ্যোগী হওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে মন্দিরের নিচের অংশে দীর্ঘদিন ধরে শেওলা জমে থাকার সমস্যা প্রশাসনের নজরে এসেছে। প্রতি বছর বর্ষাকালে মন্দিরের নিচের দিকে জল জমে যাওয়ায় মেঝে অত্যন্ত পিচ্ছিল হয়ে পড়ে। এর ফলে বহু দর্শনার্থী ও ভক্ত পা পিছলে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবারের খারচি মেলার আগে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। জল নিষ্কাশনের উন্নত ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজের মাধ্যমে ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল জানান, খারচি মেলা শুরু হতে এখনও প্রায় দেড় মাস সময় রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে একাধিক বৈঠক ও পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির সঙ্গে সমন্বয় রেখে ধাপে ধাপে চূড়ান্ত প্রস্তুতির রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। তিনি বলেন, দর্শনার্থীদের স্বার্থে মেলা শুরুর আগেই প্রয়োজনীয় উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে প্রশাসন কাজ করছে।

ইতিমধ্যেই মন্দিরের ভেতরে ও বাইরে বেশ কিছু নির্মাণ ও সংস্কারমূলক কাজ শুরু হয়েছে। মন্দির প্রাঙ্গণের সৌন্দর্যবর্ধন, চলাচলের সুবিধা বৃদ্ধি, নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এসব কাজ করা হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, এবারের খারচি মেলাকে আরও সুশৃঙ্খল, নিরাপদ এবং দর্শনার্থীবান্ধব করে তুলতে আগাম পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, খারচি পূজা শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি ত্রিপুরার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত একটি উৎসব। প্রতি বছর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি দেশের নানা রাজ্য এবং বিদেশ থেকেও অসংখ্য পর্যটক ও ভক্ত খয়েরপুরের চতুর্দশ দেবতা বাড়িতে সমবেত হন।

সাতদিনব্যাপী এই উৎসবকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি গড়ে ওঠে বৃহৎ মেলা, যা রাজ্যের অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণ হিসেবেও পরিচিত। তাই খারচি মেলাকে কেন্দ্র করে শুধু ধর্মীয় পরিবেশ নয়, পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং স্থানীয় অর্থনীতির সঙ্গেও এই উৎসবের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

সেই কারণেই এবছর আগাম প্রস্তুতির মাধ্যমে মেলার সার্বিক ব্যবস্থাপনাকে আরও উন্নত ও সুশৃঙ্খল করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে প্রশাসন। প্রশাসনের আশা, সকলের সহযোগিতায় এবারও ঐতিহ্যবাহী খারচি মেলা সফল ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে।

You may also like

Leave a Comment