Home » Blog » শান্তিরবাজার প্রাইভেট চেম্বারে ব্যস্ত চিকিৎসক

শান্তিরবাজার প্রাইভেট চেম্বারে ব্যস্ত চিকিৎসক

শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ

by Planet Tripura
0 comments 5 views

শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ,

সরকারি হাসপাতাল ফাঁকা রেখে প্রাইভেট চেম্বারে ব্যস্ত চিকিৎসক

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৮ মে : দক্ষিণ ত্রিপুরার শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতালকে ঘিরে ফের উঠল চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ।

সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক না পাওয়া, রোগীদের প্রাইভেট চেম্বারে যেতে বাধ্য করা, দীর্ঘদিন একই হাসপাতালে থেকে প্রভাব বিস্তার এবং নির্দিষ্ট ডায়াগনিস্টিক সেন্টারে রোগী পাঠানোর মতো একাধিক অভিযোগে ক্ষোভে ফুঁসছেন সাধারণ মানুষ।

সোমবার সকাল থেকেই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত বহু মানুষ চিকিৎসার আশায় শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতালে ভিড় জমান।

দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করার পর রোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, হাসপাতালে উপস্থিত নেই মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. সাগর সম্রাট দেবর্বমা।

অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে রোগী না দেখে তিনি অধিকাংশ সময় নিজের প্রাইভেট চেম্বারে কাটান।

রোগীদের পরিবারের বক্তব্য, হাসপাতালে চিকিৎসকের দেখা না মেলায় অনেক ক্ষেত্রেই রোগীদের তাঁর প্রাইভেট চেম্বারে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

সেখানে চিকিৎসা নিতে গেলে গুনতে হচ্ছে প্রায় ৩০০-৫০০ টাকা পর্যন্ত ভিজিট ফি। আর্থিকভাবে দুর্বল বহু পরিবার বাধ্য হয়ে ধারদেনা করে প্রাইভেট চেম্বারে চিকিৎসা করাতে বাধ্য হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

শুধু মেডিসিন বিভাগ নয়, হাসপাতালের আরও কয়েকজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, চোখের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. উমাকান্ত ভট্টাচার্যও নিয়মিতভাবে হাসপাতালে রোগী না দেখে প্রাইভেট চেম্বারে বেশি সময় দিচ্ছেন। ফলে সরকারি হাসপাতালের পরিষেবা কার্যত ভেঙে পড়ছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

এলাকাবাসীদের একাংশের অভিযোগ, শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতালে বহু চিকিৎসক দীর্ঘ ১০ থেকে ১৫ বছর কিংবা তারও বেশি সময় ধরে কর্মরত রয়েছেন।

বদলির নির্দেশ এলেও রাজনৈতিক প্রভাব এবং  প্রভাবশালী ওষুধ ব্যবসায়ীর হস্তক্ষেপে সেই বদলি কার্যকর হয় না বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এই পরিস্থিতিতে হাসপাতালকে কেন্দ্র করে এক ধরনের গোষ্ঠীচক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে দাবি রোগীদের একাংশের।

স্থানীয়দের অভিযোগের তির এখন দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার স্বাস্থ্য আধিকারিক জ্যোতির্ময় দাসের দিকেও।

তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরেই হাসপাতালের পরিষেবা নিয়ে নানা অভিযোগ সামনে এলেও স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছেই।

অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতালের কিছু চিকিৎসক নিয়মিতভাবে রোগীদের শান্তিরবাজারস্থিত ডায়াগনিস্ট সেন্টার”-এ যাওয়ার পরামর্শ দেন।

সেখানেই বহু চিকিৎসক প্রাইভেট চেম্বারে বসেন বলেও অভিযোগ। ফলে সরকারি হাসপাতালের রোগীদের একটি অংশকে পরিকল্পিতভাবে বেসরকারি পরিষেবার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

এছাড়াও স্থানীয়দের দাবি, হাসপাতালের পরিকাঠামো থাকলেও সঠিক তদারকির অভাবে সাধারণ মানুষ প্রত্যাশিত পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

একদিকে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক অনুপস্থিত, অন্যদিকে প্রাইভেট চেম্বারে রোগীর ভিড়—এই দ্বিচারিতা নিয়ে ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে শান্তিরবাজার মহকুমাজুড়ে।

এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের দাবি, স্বাস্থ্য দপ্তর অবিলম্বে পুরো বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত করুক।

হাসপাতালের চিকিৎসকদের উপস্থিতি, প্রাইভেট প্র্যাকটিস এবং রোগীদের নির্দিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পাঠানোর অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও তুলেছেন তাঁরা।

এখন দেখার, শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতালকে ঘিরে ওঠা এই বিস্ফোরক অভিযোগে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং সাধারণ মানুষ আদৌ স্বস্তির চিকিৎসা পরিষেবা ফিরে পান কিনা।

You may also like

Leave a Comment