মহিলা সংরক্ষণ আইন অবিলম্বে কার্যকরের দাবিতে আগরতলায় তুলকালাম,
মহিলা কংগ্রেসের বিধানসভা অভিযানের মুখে পুলিশের সাথে ধস্তাধস্তি

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা ৩০ এপ্রিল : ২০২৩ সালে সংসদে পাশ হওয়া নারী সংরক্ষণ বিল অবিলম্বে কার্যকর করার দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠল আগরতলা। প্রদেশ মহিলা কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিধানসভা অভিযানের ডাক দেওয়া হলেও পুলিশের বাধায় তা থমকে যায়।
বৃহস্পতিবার মহিলা কংগ্রেসের নেত্রী ও কর্মীরা প্রদেশ কংগ্রেস ভবন থেকে মিছিল নিয়ে বের হতেই পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে পথ আটকায়। এই সময় পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের তুমুল ধস্তাধস্তি শুরু হয়, যা ঘিরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
মহিলা কংগ্রেসের মূল দাবি হলো, ২০২৩ সালে সংসদে যে মহিলা সংরক্ষণ বিল (নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম) পাশ হয়েছে, তা ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই কার্যকর করতে হবে।
ডিলিমিটেশন বা আদমশুমারির অজুহাতে এই বিল পিছিয়ে দেওয়ার সরকারি প্রচেষ্টাকে বিজেপি-র রাজনৈতিক চাল বলে অভিহিত করেছেন আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনে মহিলা কংগ্রেস সভানেত্রী সর্বানী ঘোষ চক্রবর্তী, সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সমালোচনা করে বলেন, ২০২৩ সালে সংসদে নারী সংরক্ষণ বিল পাশ হয়ে গেলেও বিজেপি সরকার ডিলিমিটেশনের টোপ দিয়ে তা পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এটা আসলে বিজেপি-র স্বৈরাচারী মনোভাবের পরিচয়।
মোদীজি নিজের ভাষণে বারবার কংগ্রেসকে নারী-বিদ্বেষী বলে আক্রমণ করছেন, কিন্তু ইতিহাস বলে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীই প্রথম স্থানীয় স্তরে নারীদের জন্য ৩৩% সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছিলেন।
আজ মোদীজি রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে এই বিলটিকে আটকে রেখেছেন।
তিনি আরও জানান, মহিলা কংগ্রেসের দাবি হলো বর্তমান ৫৪৩টি লোকসভা আসনের ভিত্তিতেই অবিলম্বে ৩৩% সংরক্ষণ চালু করতে হবে। সভানেত্রী অভিযোগ করেন যে, বিজেপি সরকার এই বিল নিয়ে বিভাজনের রাজনীতি করছে এবং দক্ষিণ ভারতের রাজ্য ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর কণ্ঠস্বর চেপে ধরার চেষ্টা চালাচ্ছে।
আন্দোলনে পুলিশের বাধা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে পুলিশি ব্যারিকেড দিয়ে আমাদের আটকানো যাবে না।
ব্রিটিশদের শাসনকালে আমাদের পূর্বসুরীরা স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিলেন, আর আজ মোদী সরকারের পুলিশ আমাদের ন্যায্য দাবি থেকে বিরত রাখতে চাইছে।
মণিপুরে নারী নির্যাতনের সময় প্রধানমন্ত্রী মুখ খোলেননি, হাতরাস বা অঙ্কিতা ভাণ্ডারী হত্যাকাণ্ডের সময় বিজেপি সরকার নিরব ছিল। নারীরা এই অপমান ভোলেনি এবং এর যোগ্য জবাব দেওয়া হবে।
প্রদেশ মহিলা কংগ্রেস পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে, যতক্ষণ না সংসদে ৫৪৩টি আসনের ভিত্তিতে নারী সংরক্ষণ বিল পূর্ণরূপে কার্যকর হচ্ছে, ততক্ষণ তাদের এই আন্দোলন সারা রাজ্য তথা দেশজুড়ে অব্যাহত থাকবে।
এই আন্দোলনের জেরে আগরতলা শহরের কেন্দ্রস্থলে বেশ কিছুক্ষণ যান চলাচল ব্যাহত হয়।
