মোহনপুরের সিমনায় ভাতা বঞ্চিত শতবর্ষী বৃদ্ধা সোমালি সাঁওতাল

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা ৩০ এপ্রিল : সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সরকারের এই স্লোগান যেন বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই অধরাই থেকে যাচ্ছে। নাগরিক কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছচ্ছে না, এমনই এক মর্মান্তিক চিত্র উঠে এসেছে মোহনপুরের প্রত্যন্ত সিমনা এলাকার মেঘলিবন্দ এডিসি ভিলেজের বালুগাঙ্গ পাড়া থেকে।
এই এলাকার বাসিন্দা প্রায় শতবর্ষী বৃদ্ধা সোমালি সাঁওতাল এখনও পর্যন্ত বার্ধক্য ভাতার সুবিধা পাননি বলে অভিযোগ।বয়সের ভারে ন্যুব্জ শরীর, লাঠির ভরসায় চলাফেরা, তবুও জীবনের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।বর্তমানে রেশন থেকে প্রাপ্ত পাঁচ কেজি চাল এবং জঙ্গল থেকে কুড়িয়ে আনা লতা-পাতা খেয়েই দিন কাটছে তাঁর। পরিবার থাকা সত্ত্বেও আর্থিক অনটনের কারণে ছেলে-মেয়ের সংসারে বোঝা না হয়ে একাই বসবাস করছেন সোমালি সাঁওতাল।

তাঁর একটাই দাবি, মৃত্যুর আগে যেন বার্ধক্য ভাতার সুবিধা পান। অভিযোগ, ভাতার জন্য একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে আবেদন জানালেও কোনও সাড়া মেলেনি। বৃদ্ধার দাবি, রাজনৈতিক মতবিরোধ ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণেই তিনি এই প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি আরও জানান, ভোটের সময় রাজনৈতিক নেতা নেত্রীরা এলাকায় এলেও পরে আর তাঁদের দেখা মেলে না। বার্ধক্য ভাতা চালু হলে মাসিক দুই হাজার টাকা পেয়ে ন্যূনতম খাওয়া-পরার ব্যবস্থা কিছুটা সহজ হতো বলে জানিয়েছেন তিনি।
এই ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় মহলে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপ করে বৃদ্ধার ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। এই বিষয়টিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আস্থা হাড়িয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি। এখন দেখার নজর পড়ে কিনা সংবাদটিতে।
