ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে সরকারের ভূমিকায় প্রশ্ন, ক্ষতিপূরণে বৈষম্যের অভিযোগ প্রদেশ কংগ্রেসের
নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা ৩০ এপ্রিল: সম্প্রতি রাজ্যে প্রাক-বর্ষার ঝড়-বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করল প্রদেশ কংগ্রেস। দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, অতীতের ভয়াবহ দুর্যোগ থেকে শিক্ষা না নিয়ে সরকার শুধু প্রচারেই ব্যস্ত থেকেছে, ফলে বারবার সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হচ্ছে।
প্রদেশ কংগ্রেসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বন্যা ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে রাজ্যের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং ২৯ জনের প্রাণহানি ঘটে। লক্ষ লক্ষ কৃষক ও মৎস্যজীবী সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েন, ধ্বংস হয় হাজার হাজার বাড়িঘর। সেই বিপর্যয়কে জাতীয় বিপর্যয় হিসেবে ঘোষণা করার প্রস্তাব রাজ্য সরকার দেয়নি বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত আর্থিক সহায়তাও সঠিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বণ্টন হয়নি বলে দাবি করা হয়। সাম্প্রতিক ২৭-২৮ এপ্রিলের ঝড়েও রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সরকারি প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, অন্তত ২ জনের মৃত্যু হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪৯১টি বাড়ি এবং প্রায় ৫,৩৮৪ জন কৃষক নতুন করে বিপদের মুখে পড়েছেন। ধলাই, কৈলাশহর, উদয়পুর, সোনামুড়া ও বিশালগড় এলাকাগুলিতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি বলে জানা গেছে। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠককে পর্যালোচনামূলক বলেই উল্লেখ করেছে কংগ্রেস, তবে তাদের প্রশ্ন, প্রাক-বর্ষার আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হল না কেন ? দলের অভিযোগ, সরকারের কাছে জনগণের জীবন ও সম্পত্তির সুরক্ষার চেয়ে দলীয় স্বার্থই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে কেন।
এদিকে, সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত ১৪টি পরিবারের জন্য ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হলেও কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে কোনো স্পষ্ট ঘোষণা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কংগ্রেস। তাদের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত সকল পরিবারের পাশাপাশি কৃষকদের ক্ষতির সঠিক মূল্যায়ন করে দ্রুত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। প্রদেশ কংগ্রেস মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী জানিয়েছেন, ক্ষতিপূরণ প্রদানের ক্ষেত্রে দলীয় পক্ষপাতিত্ব বন্ধ করে নিরপেক্ষভাবে সরকারি ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করতে হবে। একই সঙ্গে মৃতদের পরিবারকে পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে।
