প্যারাডাইস চৌমুহনিতে ড্রেন সংকট, নাগরিক অসচেতনতা নাকি পুর নিগমের ব্যর্থতা? বর্ষার আগে উদ্বেগ বাড়ছে
নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা ১৮ এপ্রিল : রাজধানীর প্যারাডাইস চৌমুহনি এলাকায় গত প্রায় ১৫ থেকে ২০ দিন ধরে ড্রেন পরিষ্কারের কাজ চললেও এখনও পুরোপুরি স্বস্তি ফেরেনি।ড্রেনের তলায় বছরের পর বছর জমে থাকা প্লাস্টিক, অপচনশীল বর্জ্য ও নানান আবর্জনা সরাতে হিমশিম খাচ্ছেন সাফাই কর্মীরা। তাঁদের কথায়, আমরা টানা কাজ করছি, কিন্তু যতই পরিষ্কার করি, মানুষ যদি সচেতন না হন, তাহলে এই সমস্যা কখনওই পুরোপুরি মিটবে না। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ড্রেনগুলির দীর্ঘদিনের অবহেলার ফলে জলনিকাশী ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে।
সামান্য বৃষ্টিতেই জল জমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা বর্ষা এলেই বড় সমস্যার রূপ নেয়। তবে এই সমস্যার জন্য শুধুমাত্র নাগরিকদের দায়ী করলেই চিত্রটি সম্পূর্ণ হয় না, এমনটাই মনে করছেন এলাকার বহু বাসিন্দা।তাঁদের অভিযোগ, পুর নিগম একদিকে সম্পদ কর, জলকর এবং ট্রেড লাইসেন্স ফি গত পাঁচ বছরে একাধিকবার বৃদ্ধি করলেও, তার সমপরিমাণ পরিষেবা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। শহরের প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত ডাস্টবিন নেই, অনেক এলাকায় অর্ধেক সংখ্যক ডাস্টবিনও মজুত নেই। ফলে বাধ্য হয়েই অনেক মানুষ ড্রেনকেই আবর্জনা ফেলার জায়গা হিসেবে ব্যবহার করছেন।
বিশেষ করে বাণিজ্যিক এলাকাগুলিতে ছোট ছোট বাক্সজাত ডাস্টবিন থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে তার দেখা মেলে না। নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কারেরও অভাব রয়েছে বছরের পর বছর। ফলে আবর্জনা জমে ড্রেনগুলির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এদিকে বর্ষা আসন্ন। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে একসাথে রাস্তা খোঁড়া, ড্রেন নির্মাণ, কভার ড্রেন প্রকল্প এবং আন্ডারগ্রাউন্ড বিদ্যুতায়নের কাজ চলছে। এই পরিস্থিতিতে ড্রেনের বর্তমান অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শহরবাসী। তাঁদের মতে, পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের অভাবে উন্নয়নমূলক কাজই এখন সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দেশের বিভিন্ন স্মার্ট সিটি প্রকল্পের শহরগুলিতে আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জলনিকাশী ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। যেমন, নিয়মিত মেকানিক্যাল ড্রেন ক্লিনিং,
প্রতিটি ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত সংখ্যক ডাস্টবিন ও সেগুলির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, কঠিন বর্জ্য পৃথকীকরণ (ড্রাই ও ওয়েট ওয়েস্ট), স্মার্ট মনিটরিং সিস্টেমের মাধ্যমে নিকাশি ব্যবস্থার নজরদারি, জল জমা প্রতিরোধে উন্নত ড্রেনেজ প্ল্যানিং ও স্টর্ম ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট। এর তুলনায় প্যারাডাইস চৌমুহনিসহ শহরের বহু এলাকায় এখনও প্রাথমিক পরিষেবাগুলিই সঠিকভাবে কার্যকর নয়।
একদিকে নাগরিকদের অসচেতনতা, অন্যদিকে প্রশাসনিক ব্যর্থতা, দুইয়ের যোগফলেই এই সংকট তৈরি হয়েছে বলেই মনে করছেন সচেতন মহল। তবে দায় এড়িয়ে একে অপরের দিকে আঙুল তুললে সমস্যার সমাধান হবে না। বরং প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ, প্রশাসনের সক্রিয়তা এবং নাগরিকদের দায়িত্ববোধ, দুটোই সমান জরুরি। বর্ষার আগে যদি কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে আগামী দিনে শহরবাসীকে জলাবদ্ধতা, দূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়তে হবে এমনটাই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। আর তখন পুর নিগম পুর্বতন বাম সরকারের ঘারে দোষ চাপিয়ে নিজেদের দায়িত্ব খালাস করা ছাড়া কিছুই করবে না।
