ত্রিপুরার উত্তর জেলার ধর্মনগর থানাধীন পূর্ব হুরুয়া গ্রামে নাবালিকা ধর্ষণ কাণ্ডকে কেন্দ্র করে একের পর এক নাটকীয় ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা ধর্মনগর জুড়ে। শ্লীলতাহানি থেকে সরাসরি ধর্ষণের অভিযোগ এবং শেষে পলাতক মূল অভিযুক্তের রহস্যজনক মৃত্যু—সব মিলিয়ে ঘটনাটি ঘিরে তৈরি হয়েছে গভীর রহস্য ও উত্তেজনা।
জানা যায়, গত ১৭ ডিসেম্বর পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পথে এক নাবালিকা কন্যাকে শ্লীলতাহানি করার অভিযোগ তোলে নির্যাতিতার পরিবার। পরবর্তীতে অভিযোগের গুরুত্ব বাড়িয়ে সরাসরি ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করা হয় ধর্মনগর মহিলা থানায়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, পূর্ব হুরুয়া গ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রণজিৎ পাল চৌধুরী (৫৫) এবং দক্ষিণ হুরুয়া গ্রামের কেশব ধর (২৬) ওরফে অসিত নাবালিকাকে একটি দোকানের আন্ডারগ্রাউন্ডে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। আরও অভিযোগ, ঘটনার সময় নাবালিকাকে ব্ল্যাকমেইল করার উদ্দেশ্যে মোবাইল ফোনে ভিডিও রেকর্ডিং করা হয়।
ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অভিযুক্ত অসিতকে গ্রেপ্তার করলেও মূল অভিযুক্ত রণজিৎ পাল চৌধুরী দীর্ঘদিন পলাতক থাকায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে এলাকাবাসী। পূর্ব হুরুয়া গ্রামের শিবনগর এলাকায় নারী-পুরুষ নির্বিশেষে গ্রামবাসীরা ধর্মনগর–শনিছড়া মূল সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং পুলিশকে দুই দিনের আল্টিমেটাম দেন।
এর মধ্যেই মঙ্গলবার দুপুরে ঘটে যায় চাঞ্চল্যকর ঘটনা। ধর্মনগর থানার অন্তর্গত চন্দ্রপুর গ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ডের একটি জঙ্গল এলাকা থেকে পলাতক অভিযুক্ত রণজিৎ পাল চৌধুরীর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কমল দেববর্মা সহ ধর্মনগর মহিলা থানার পুলিশ। মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ধর্মনগর জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পক্সো মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তির এভাবে মৃতদেহ উদ্ধারের পর স্বাভাবিকভাবেই একাধিক প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি আত্মহত্যা, না কি জনরোষ ও চাপের জেরে ঘটে যাওয়া কোনও ষড়যন্ত্র? পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের অগ্রগতির উপরই নির্ভর করছে এই রহস্যের পর্দা কবে উঠবে।
সব মিলিয়ে নাবালিকা ধর্ষণ অভিযোগ, জনবিক্ষোভ এবং পলাতক অভিযুক্তের রহস্যজনক মৃত্যু—এই ত্রিমুখী ঘটনায় ধর্মনগর জুড়ে তীব্র উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের আবহ তৈরি হয়েছে।
