Home » Blog » জেল ওয়ার্ডেন নিয়োগে ৪ বছরের অপেক্ষা, ক্ষোভে চাকরিপ্রার্থীরা

জেল ওয়ার্ডেন নিয়োগে ৪ বছরের অপেক্ষা, ক্ষোভে চাকরিপ্রার্থীরা

নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্নের দাবিতে ফের সরব জেল পুলিশ প্রার্থীরা

by Planet Tripura
0 comments 10 views

জেল পুলিশের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবিতে ফের সরব চাকরি প্রত্যাশীরা!

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা ২৯ মে : ত্রিপুরায় দীর্ঘ চার বছর ধরে ঝুলে রয়েছে জেল পুলিশের (জেল ওয়ার্ডেন) নিয়োগ প্রক্রিয়া। ২০২২ সালে রাজ্যের কারা দপ্তরের অধীনে ২৪৯টি জেল ওয়ার্ডেন পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ব্যাপক আশায় বুক বেঁধেছিলেন হাজার হাজার বেকার যুবক-যুবতী।

সেই বছরই শারীরিক সক্ষমতা পরীক্ষা সম্পন্ন হলেও আজ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়নি লিখিত পরীক্ষা কিংবা ভাইভা। ফলে অনিশ্চয়তা, হতাশা ও ক্ষোভে দিন কাটছে চাকরিপ্রার্থীদের। চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ, ২৪৯টি পদের জন্য প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি প্রার্থী শারীরিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।

অনেকে কঠোর পরিশ্রম করে পরীক্ষায় উত্তীর্ণও হন। কিন্তু এরপর নির্বাচন, প্রশাসনিক জটিলতা ও বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া কার্যত থমকে যায়। চার বছর কেটে গেলেও সরকার বা কারা দপ্তরের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবারও একদল চাকরিপ্রত্যাশী আগরতলায় আইজি প্রিজনের দপ্তরে গিয়ে লিখিত পরীক্ষা কবে হবে, সেই বিষয়ে জানতে চান। কিন্তু সংশ্লিষ্ট আধিকারিক অফিসে উপস্থিত না থাকায় হতাশ হয়ে খালি হাতেই ফিরে যেতে হয় তাঁদের। এতে ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে বেকারদের মধ্যে।

আন্দোলন রত চাকরিপ্রার্থীরা জানান, আমরা চার বছর ধরে শুধু দপ্তরের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। কেউ সঠিক উত্তর দিচ্ছে না। কবে লিখিত পরীক্ষা হবে, কবে ভাইভা হবে, আদৌ নিয়োগ হবে কিনা, কিছুই জানি না। আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছেলেখেলা চলছে।

তাঁদের আরও অভিযোগ, দীর্ঘসূত্রতার কারণে বহু চাকরিপ্রার্থীর বয়সসীমা প্রায় শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে তাঁরা চরম মানসিক চাপে রয়েছেন। অনেকেই অন্য চাকরির প্রস্তুতিও ঠিকমতো নিতে পারেননি এই নিয়োগের আশায় অপেক্ষা করতে করতে।

এর আগেও চাকরিপ্রার্থীরা একাধিকবার আন্দোলনে নেমেছিলেন। কখনও খালি থালা হাতে বিক্ষোভ, কখনও আইজি প্রিজনের দপ্তরের সামনে ধর্না, আবার কখনও মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

বিভিন্ন সময় ডেপুটেশনও জমা দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে দাবি তাঁদের। চাকরিপ্রার্থীদের একাংশের বক্তব্য, সরকার শুধু প্রচার করছে। ধন্যবাদ র‍্যালি হচ্ছে, সভা হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে নিয়োগ নেই। চার বছরে একটি নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে না পারা সরকারের চরম ব্যর্থতা।

বেকার যুবকদের প্রশ্ন, যখন শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে, তখন লিখিত পরীক্ষা নিতে এত দেরি কেন ? প্রশাসনের নীরবতায় ধীরে ধীরে ক্ষোভ জমছে চাকরিপ্রত্যাশীদের মধ্যে।

দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তাঁরা।

You may also like

Leave a Comment