আগরতলার NSRCC-তে স্বামী বিবেকানন্দ ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তি উন্মোচন, অনুষ্ঠিত মেগা রক্তদান শিবির
আগরতলা: যুব সমাজকে খেলাধুলার প্রতি আরও উৎসাহিত করা এবং সমাজের প্রতি মানবিক দায়বদ্ধতা বাড়ানোর লক্ষ্যে আগরতলার নেতাজি সুভাষ রিজিওনাল কোচিং সেন্টার (NSRCC)-এ অনুষ্ঠিত হলো এক বিশেষ কর্মসূচি। অনুষ্ঠানে স্বামী বিবেকানন্দ ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তি উন্মোচনের পাশাপাশি আয়োজন করা হয় মেগা রক্তদান শিবিরের।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহা, আগরতলা পুর নিগমের মেয়র দীপক মজুমদার সহ অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিরা। অনুষ্ঠানের মঞ্চ স্বামী বিবেকানন্দ ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর আদর্শ, দেশপ্রেম, যুবসমাজের প্রতি তাঁদের আহ্বান এবং সমাজের জন্য কাজ করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বক্তারা বলেন, রক্তদান একটি মহৎ সামাজিক দায়িত্ব। একজন মানুষের দান করা রক্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় অন্য একজনের জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তাই সুস্থ ও সক্ষম নাগরিকদের নিয়মিত রক্তদানে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।
এদিনের মেগা রক্তদান শিবিরে ব্যাপক সাড়া পড়ে। প্রায় ১০০ জন স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন। রক্তদাতাদের উৎসাহিত করে বক্তারা বলেন, রক্তের কোনো কৃত্রিম বিকল্প নেই। জরুরি সময়ে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগী, দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তি কিংবা বিভিন্ন চিকিৎসাজনিত কারণে রক্তের প্রয়োজন হওয়া রোগীদের জন্য রক্তদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পাশাপাশি অনুষ্ঠানে খেলাধুলার গুরুত্ব নিয়েও আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, সুস্থ শরীর ও সুস্থ মন গড়ে তুলতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে মোবাইল ও প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাত্রার কারণে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে শারীরিক পরিশ্রম কমে যাচ্ছে। তাই ছোটবেলা থেকেই শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বক্তাদের মতে, খেলাধুলা শুধু শারীরিক সক্ষমতা বাড়ায় না, এর মাধ্যমে শৃঙ্খলা, নেতৃত্বের গুণ, দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা এবং আত্মবিশ্বাসও তৈরি হয়। ত্রিপুরার প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে ক্রীড়া পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে।
স্বামী বিবেকানন্দ ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তি উন্মোচন এবং রক্তদান শিবির—এই দুই কর্মসূচির মাধ্যমে এদিনের অনুষ্ঠান মানবিকতা, দেশপ্রেম ও যুবসমাজকে ইতিবাচক পথে এগিয়ে নেওয়ার একটি বার্তা বহন করে। রক্তদানের মতো মানবিক উদ্যোগ এবং খেলাধুলার প্রসারের মাধ্যমে সুস্থ, সচেতন ও শক্তিশালী সমাজ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয় অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে।