ত্রিপুরার পর্যটনে নতুন দিগন্ত: আগরতলায় ‘তাজ পুষ্পবন্ত প্যালেস’ হেরিটেজ হোটেলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন অমিত শাহ
অনলাইন ডেস্ক, ৫ জুন ২০২৬: উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্য ত্রিপুরার পর্যটন শিল্প ও পরিকাঠামো উন্নয়নে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হলো। দুই দিনের ত্রিপুরা সফরে এসে আজ শুক্রবার আগরতলার কুঞ্জবনস্থিত ঐতিহাসিক পুষ্পবন্ত প্যালেস প্রাঙ্গণে বহু প্রতীক্ষিত ‘তাজ পুষ্পবন্ত প্যালেস’ পাঁচতারা হেরিটেজ হোটেলের ভূমিপূজন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
টাটা গ্রুপের নিয়ন্ত্রণাধীন ‘ইন্ডিয়ান হোটেলস কোম্পানি লিমিটেড’ (IHCL) এবং ত্রিপুরা সরকারের যৌথ উদ্যোগে এই রাজকীয় প্রাসাদটিকে বিশ্বমানের হেরিটেজ লাক্সারি হোটেলে রূপান্তর করা হচ্ছে।
এদিনের জমকালো অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা, টিপরা মোথা দলের প্রধান প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মা, রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্যগণ, সাংসদ এবং রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে মাতা ত্রিপুরেশ্বরী মন্দিরের একটি প্রতীকী রেপ্লিকা উপহার দেন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা। অনুষ্ঠানে প্রস্তাবিত পাঁচতারা হোটেলের নকশা এবং সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত একটি বিশেষ তথ্যচিত্রও প্রদর্শিত হয়।
সরকারি আধিকারিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগামী তিন বছরের মধ্যে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই বিলাসবহুল পাঁচতারা হোটেলটি সম্পূর্ণ তৈরি করা হবে।
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
| মোট কক্ষ সংখ্যা | ১০৪টি লাক্সারি রুম |
| বিশেষ রাজকীয় কক্ষ | ৪টি কক্ষ মাণিক্য রাজবংশের জীবনযাত্রার আদলে তৈরি |
| অন্যান্য পরিকাঠামো | স্ট্যান্ডার্ড রুম (৮৯টি), এক্সিকিউটিভ রুম ও সুইট, প্রেসিডেন্সিয়াল ভিলা |
| আধুনিক সুবিধা | ব্যাংকুয়েট ব্লক, বলরুম, কনফারেন্স হল, রেস্তোরাঁ ও সুইমিং পুল |
| পরিচালনা সংস্থা | তাজ গ্রুপ (IHCL) |
পুষ্পবন্ত প্যালেসের গৌরবময় ইতিহাস
এই প্রাসাদের সাথে জড়িয়ে রয়েছে ত্রিপুরার এক শতাব্দী প্রাচীন ইতিহাস। ১৯১৭ সালে তৎকালীন মহারাজা বীরেন্দ্র কিশোর মাণিক্য বাহাদুর আগরতলার উত্তরে কুঞ্জবন টিলার ওপর এই প্রাসাদটি নির্মাণ করেছিলেন, যার কারণে এটি ‘কুঞ্জবন প্রাসাদ’ নামেও পরিচিত।
-
রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিধন্য: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাথে ত্রিপুরার রাজপরিবারের গভীর সম্পর্ক ছিল। ১৯২৬ সালে তাঁর শেষ ত্রিপুরা সফরের সময় তিনি এই পুষ্পবন্ত প্রাসাদেই অবস্থান করেছিলেন। এমনকি ১৯৪১ সালের মে মাসে কবির ৮০তম জন্মজয়ন্তীও এই প্রাসাদেই উদযাপিত হয়েছিল।
-
রাজভবন হিসেবে ব্যবহার: ১৯৪৯ সালে ত্রিপুরা ভারতের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর এই প্রাসাদটিকে রাজ্যপালের সরকারি বাসভবন অর্থাৎ ‘রাজভবন’ হিসেবে ব্যবহার করা হতো। দীর্ঘ সাত দশক পর, ২০১৮ সালে রাজভবন নতুন কমপ্লেক্সে স্থানান্তরিত হয়।
বক্তব্য:
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, “এই প্রকল্পটি ত্রিপুরার রাজকীয় ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে বাঁচিয়ে রাখার পাশাপাশি রাজ্যে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং পর্যটন বিনিয়োগের নতুন দুয়ার খুলে দেবে।” অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা একে ত্রিপুরার সংস্কৃতির প্রসারে একটি ‘রূপান্তরকারী পদক্ষেপ’ বলে আখ্যা দেন।
উল্লেখ্য, আজ হেরিটেজ হোটেলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের লঙ্কামুড়া বর্ডার আউটপোস্টে বিএসএফ জওয়ানদের সাথে কথা বলেন এবং শালবাগানে ত্রিপুরা ফ্রন্টিয়ার সদর দপ্তরে এক উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা পর্যালোচনা বৈঠকেও অংশ নেন。
#AmitShahInTripura #TajPushpabantaPalace #TripuraTourism #ManikSaha #AgartalaNews #HeritageHotel #IHCLTaj #TripuraHistory