Home » Blog » ত্রিপুরাজুড়ে বৃষ্টি-ঝড়ের পূর্বাভাস

ত্রিপুরাজুড়ে বৃষ্টি-ঝড়ের পূর্বাভাস

সতর্কতা জারি আবহাওয়া দফতরের

by Planet Tripura
0 comments 1 views

সাতদিন ত্রিপুরাজুড়ে বৃষ্টি-ঝড়ের পূর্বাভাস, সতর্কতা জারি আবহাওয়া দফতরের

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা: বিগত কয়েকদিন ধরে ত্রিপুরাজুড়ে এক অস্বস্তিকর আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিরাজ করছে। দিনের বেলায় তীব্র রোদ, মাঝেমধ্যে আকাশে মেঘের আনাগোনা, বিকেল বা সন্ধ্যায় বজ্রগর্জন, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির দেখা নেই। ফলে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার প্রভাবে কার্যত হাঁসফাঁস অবস্থা সাধারণ মানুষের। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে গরমের তীব্রতা ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

এই অবস্থার মধ্যেই স্বস্তির খবর দিয়েছে ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (আইএমডি)-এর আগরতলা আবহাওয়া কেন্দ্র। রবিবার সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে প্রকাশিত সাত দিনের আবহাওয়া পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, আগামী কয়েকদিন ত্রিপুরার সব জেলাজুড়েই বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়ো হাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৪ মে থেকে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাত শুরু হতে পারে।

পাশাপাশি উত্তর ত্রিপুরা, উনকোটি, ধলাই, খোয়াই এবং পশ্চিম ত্রিপুরা জেলায় প্রথম দুই দিনে ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছে। এছাড়া ২৫ মে রাজ্যের সব জেলাতেই বিচ্ছিন্নভাবে বজ্রবিদ্যুৎসহ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ২৯ মে পর্যন্ত বজ্রঝড়ের কার্যকলাপ অব্যাহত থাকতে পারে এবং ২৯–৩০ মে পর্যন্তও বহু জায়গায় বৃষ্টিপাত চলার সম্ভাবনা রয়েছে।

গত তিন থেকে চার দিন ধরে রাজ্যে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছিল সাধারণ মানুষের মধ্যে।সকাল থেকেই চড়া রোদ, দুপুরের পর কালো মেঘ জমলেও অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টি না হওয়ায় তাপ ও আর্দ্রতার সম্মিলিত প্রভাবে জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে ওঠে। বাজার, অফিস, স্কুল-কলেজ, খোলা জায়গায় কাজ করা শ্রমজীবী মানুষ এবং প্রবীণদের সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।অন্যদিকে কৃষিক্ষেত্রেও বৃষ্টির প্রয়োজনীয়তা ক্রমশ বাড়ছিল।

অনেক জায়গায় চাষের জমিতে আর্দ্রতার ঘাটতি দেখা দিয়েছে বলে কৃষকদের একাংশ জানিয়েছেন। আগাম মৌসুমি প্রস্তুতি, সবজি চাষ ও অন্যান্য কৃষিকাজের জন্য এই সময়ে নিয়মিত বৃষ্টিপাত অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছিল। ফলে সম্ভাব্য বৃষ্টির পূর্বাভাস কৃষকদের কাছেও কিছুটা স্বস্তির বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই বৃষ্টির সঙ্গে ঝড় ও বজ্রপাতের আশঙ্কাও থাকায় সতর্ক করেছে আবহাওয়া দফতর। ঝড়ের কারণে বাগান, ফলচাষ ও দাঁড়িয়ে থাকা ফসলের ক্ষতি হতে পারে। কলা ও পেঁপে গাছ উপড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাঘাত, দুর্বল কাঠামো ও কাঁচা ঘরের ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হয়নি। ভারী বৃষ্টির ফলে নিচু এলাকায় জল জমা, অস্থায়ী জলাবদ্ধতা, রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যাওয়া, ছোটখাটো ভূমিধস এবং জল ও বিদ্যুৎ পরিষেবায় সাময়িক সমস্যা দেখা দিতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।

আবহাওয়া দফতরের পরামর্শ অনুযায়ী, বজ্রঝড় চলাকালীন ঘরের বাইরে না থাকা, গাছের নিচে আশ্রয় না নেওয়া, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি সংযোগমুক্ত রাখা এবং জলাশয় ও বৈদ্যুতিক পরিবাহী বস্তু থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।একইসঙ্গে কৃষকদেরও প্রতিকূল আবহাওয়ার সময় মাঠের কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

You may also like

Leave a Comment