নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা, ২২ মে : পূর্ব মেদিনীপুর জেলার শহীদ মাতঙ্গিনী ব্লকের সাহড়া গ্রামে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয় ঘিরে বৃহস্পতিবার তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বিজেপির দখলে থাকা ওই দলীয় কার্যালয় ফের তৃণমূল নেতৃত্বের হাতে হস্তান্তরকে কেন্দ্র করে শুরু হয় নতুন বিতর্ক।
অভিযোগ, লোকসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের রাতেই সাহড়া গ্রামের হলদিয়া-মেচেদা রাজ্য সড়কের ধারে অবস্থিত তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় দখল করে নেয় বিজেপির একাংশ কর্মী-সমর্থক। শুধু দখলই নয়, কার্যালয়টি গেরুয়া রংও করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তৃণমূলের।
বৃহস্পতিবার সকালে দুই দলের নেতৃত্বের উপস্থিতিতে ওই কার্যালয় ফের তৃণমূলের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। বিজেপি নেতৃত্ব চাবি হস্তান্তর করার পর কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করতেই একটি ব্যাগ থেকে কয়েকশো সরকারি রেশন কার্ড উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি করে বিজেপি।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুহূর্তের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি হলদিয়া-মেচেদা রাজ্য সড়ক অবরোধও করেন। বিজেপির অভিযোগ, ওই রেশন কার্ড ব্যবহার করে অবৈধ কাজ চলত এবং কার্ডগুলির মাধ্যমে রেশন তোলা হত। পাশাপাশি দলীয় কার্যালয়টি বাজেয়াপ্ত করার দাবিও জানায় তারা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় Kolaghat Police Station-এর পুলিশ। উদ্ধার হওয়া রেশন কার্ডগুলি পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, রেশন কার্ডগুলি বহু পুরনো এবং ২০১৮ সালের সময়কার। স্থানীয় প্রাক্তন গ্রাম সদস্য মদন চন্দ্র দাস জানান, পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে কার্ডগুলি বিলি করার দায়িত্ব তাঁকে দেওয়া হয়েছিল। কিছু কার্ড বিলি করা হলেও পরে উপভোক্তাদের বাড়িতে সরাসরি কার্ড পৌঁছে যায়। সেই কারণে অবশিষ্ট কার্ডগুলি আর ফেরত দেওয়া হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। তবে কার্ডগুলি পঞ্চায়েতে জমা না দেওয়াকে নিজের ভুল বলেও স্বীকার করেছেন তিনি।
সব মিলিয়ে সাহড়া গ্রামের দলীয় কার্যালয় হস্তান্তর ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরের পাশাপাশি রেশন কার্ড উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকায় উত্তেজনা থাকলেও পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।