ভেঙে পড়ল অর্ধসমাপ্ত সেতু, দ্রুত পুনর্নির্মাণের আশ্বাস মন্ত্রীর
নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা ১৮ এপ্রিল : ত্রিপুরার উত্তরাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ প্রকল্প ফের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ফটিকরায়-এর তেলিয়া গ্রাম থেকে পাবিয়াছড়া বিধানসভার সুনাইমুড়ি গ্রামে সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে মনু নদীর ওপর নির্মীয়মাণ সেতুর একটি অংশ সম্প্রতি ভেঙে পড়ায় চরম উদ্বেগ ছড়িয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।
প্রায় নয় বছর আগে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হলেও নানা প্রশাসনিক জটিলতা, অর্থ বরাদ্দের অনিশ্চয়তা এবং কাজের ধীরগতির কারণে এটি আজও সম্পূর্ণ হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকার ফলে সেতুর কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে তারই ফলস্বরূপ একটি অংশ ভেঙে পড়ে। শনিবার প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান এলাকার বিধায়ক তথা রাজ্য সরকারের মন্ত্রী সুধাংশু দাস। তিনি সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পরিদর্শন করেন এবং আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখেন। এসময় স্থানীয় গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সমস্যার কথা শোনেন এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি।
মন্ত্রী জানান, গত কিছুদিন ধর্মনগর নির্বাচনের প্রচারে ব্যস্ত থাকার কারণে এলাকায় আসা সম্ভব হয়নি। তবে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।বিরোধীদের পক্ষ থেকে সেতু নির্মাণে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠলেও তিনি সেই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিগত দিনের কিছু নেতার গাফিলতির কারণেই সেতুটি অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে দ্রুত কাজ পুনরায় শুরু করার নির্দেশ দেওয়ার আশ্বাস পাওয়া গেছে। খুব শীঘ্রই প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ও কারিগরি পর্যালোচনা সম্পন্ন করে নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এই পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কুমারঘাট পিডব্লিউডি সার্কেল অফিসের সহকারী প্রধান প্রকৌশলী রতিরঞ্জন দেবনাথ, এসডিও সিদ্ধার্থ দে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অন্যান্য প্রকৌশলীরা, জগন্নাথপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রতিনিধিরা এবং বিপুল সংখ্যক স্থানীয় মানুষ। উল্লেখ্য, এই সেতুটি নির্মিত হলে তেলিয়া গ্রাম, সুনাইমুড়ি সহ আশপাশের একাধিক গ্রামের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেকটাই সহজ হয়ে উঠবে। বর্তমানে বিকল্প রাস্তার অভাবে স্থানীয়দের দীর্ঘ পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হয়, যা বিশেষ করে ছাত্রছাত্রী, রোগী ও ব্যবসায়ীদের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সেতুর একটি অংশ ভেঙে পড়ার ঘটনায় নতুন করে নির্মাণের গুণগত মান ও প্রশাসনিক নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাসে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে এলাকাবাসীর মধ্যে। এখন দেখার, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কত দ্রুত এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়।
