ধান চাষের আগে বাড়তি লাভ, দোলবাড়িতে ডাল চাষে কৃষকদের নতুন দিশা
নিজস্ব প্রতিনিধি, সাব্রুম:
কৃষিজমির সর্বোত্তম ব্যবহার এবং কৃষকদের আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে দোলবাড়ি এলাকায় এক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করল ভারতীয় কৃষি অনুসন্ধান কেন্দ্র। স্থানীয় কৃষকদের ডাল জাতীয় শস্য চাষে উদ্বুদ্ধ করতে এবং আধুনিক কৃষি পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত করাতে দু’দিনব্যাপী এক বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এই কর্মসূচিতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় ফেনী এফপিও।
সেমিনারের মূল লক্ষ্য ছিল শীতকালীন ফসল কাটার পর এবং বোরো ধান চাষের আগের সময়টিকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে জমিকে ফাঁকা না রেখে অতিরিক্ত আয় করা যায়, সেই বিষয়ে কৃষকদের বাস্তবভিত্তিক দিকনির্দেশনা দেওয়া। কৃষি বিশেষজ্ঞরা জানান, এই মধ্যবর্তী সময়ে মুগ ডাল ও মাসকলাইয়ের মতো স্বল্প মেয়াদী ডাল জাতীয় শস্য চাষ অত্যন্ত লাভজনক হতে পারে।
তাঁদের মতে, এই ধরনের ডাল চাষের মাধ্যমে একদিকে যেমন কৃষকরা অল্প সময়ে অতিরিক্ত আয় করতে পারেন, অন্যদিকে মাটির উর্বরতাও স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। কারণ ডাল জাতীয় ফসল মাটিতে নাইট্রোজেনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা পরবর্তী ধান চাষের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লেম্বুছড়া কেন্দ্র থেকে আগত বিশিষ্ট কৃষি বিজ্ঞানী বিজয়া ভট্টাচার্য ও প্রদীপ কুমার সরকার। তাঁরা আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ডাল চাষের বিভিন্ন দিক—বীজ নির্বাচন, সঠিক সময়, সার প্রয়োগ এবং রোগ-পোকা দমন—সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পাশাপাশি, আবহাওয়া বিজ্ঞানী ধীমান দাস চৌধুরী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে চাষাবাদের নতুন কৌশল তুলে ধরেন, যা বর্তমান কৃষি ব্যবস্থায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই সেমিনারে ফেনী এফপিও-এর পক্ষ থেকে প্রগ্রেসিভ ফার্মার বিশ্বজিৎ মজুমদার, রাজেন দাস এবং প্রনজিৎ ভৌমিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিশেষ করে বিশ্বজিৎ মজুমদার তাঁর সফল কৃষি অভিজ্ঞতা শেয়ার করে উপস্থিত কৃষকদের অনুপ্রাণিত করেন। তিনি জানান, আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিকল্পিত কৃষি পদ্ধতি গ্রহণ করলে চাষাবাদকে একটি লাভজনক পেশায় রূপান্তর করা সম্ভব।
দোলবাড়ি এলাকার কৃষকদের উৎসাহব্যঞ্জক অংশগ্রহণ এই কর্মসূচিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের উদ্যোগ আগামী দিনে এলাকার কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে এবং কৃষকদের আর্থিক স্বনির্ভরতার পথ সুগম করবে।
