দুর্বল দেশেই সামরিক অভিযান? আমেরিকার বৈদেশিক নীতি নিয়ে নতুন বিতর্ক
বিশ্ব রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই একটি প্রশ্ন ঘুরে ফিরে সামনে আসে—কেন United States বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সামরিক অভিযান চালায় তুলনামূলক দুর্বল দেশগুলোর বিরুদ্ধে, কিন্তু সমপর্যায়ের শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধের পথে হাঁটে না?
আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রশ্ন নতুন নয়। বরং গত কয়েক দশকের বিভিন্ন যুদ্ধ ও সামরিক অভিযানের ইতিহাসেই এই বিতর্ক বারবার সামনে এসেছে।
গত দুই দশকের সামরিক অভিযানের উদাহরণ
গত দুই দশকে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক অভিযানের ঘটনা বিশ্ব রাজনীতিতে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
২০০১ সালে শুরু হয় War in Afghanistan। ওই অভিযানে তালেবান সরকারকে উৎখাত করার লক্ষ্য নিয়ে অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা।
এরপর ২০০৩ সালে শুরু হয় Iraq War। এই অভিযানের মাধ্যমে Iraq-এ সামরিক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জোট।
২০১১ সালে Libya-তে ন্যাটোর নেতৃত্বে সামরিক হস্তক্ষেপও বিশ্ব রাজনীতিতে বড় আলোচনার জন্ম দেয়। ওই অভিযানের পর দেশটির দীর্ঘদিনের শাসক Muammar Gaddafi ক্ষমতাচ্যুত হন।
একইভাবে Syria-তেও বিভিন্ন সময়ে সীমিত সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
সমালোচকদের মতে, এসব দেশ সামরিকভাবে তুলনামূলক দুর্বল বা রাজনৈতিকভাবে অস্থির ছিল, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান তুলনামূলক সহজ ছিল।
শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর ক্ষেত্রে ভিন্ন কৌশল
অন্যদিকে শক্তিধর দেশগুলোর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত সরাসরি সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে কূটনৈতিক চাপ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বা প্রক্সি রাজনীতির পথ বেছে নেয়।
উদাহরণ হিসেবে বিশ্লেষকরা প্রায়ই উল্লেখ করেন Russia ও China-এর কথা। এই দুই দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দ্বন্দ্ব থাকলেও সরাসরি যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এর অন্যতম বড় কারণ পারমাণবিক অস্ত্র এবং বৈশ্বিক সামরিক ভারসাম্য।
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, শক্তিধর দেশগুলোর বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ শুরু হলে তা দ্রুতই বৃহৎ বৈশ্বিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে তা সম্ভাব্যভাবে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলেও মনে করেন তারা।
ভূরাজনীতি ও জ্বালানি স্বার্থ
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সামরিক অভিযান অনেক সময়ই ভূরাজনৈতিক স্বার্থ, জ্বালানি সম্পদ, আঞ্চলিক প্রভাব এবং নিরাপত্তা নীতির সঙ্গে জড়িত থাকে।
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ক্ষেত্রে তেল ও জ্বালানি সম্পদের গুরুত্ব বড় ভূমিকা রাখে বলে বিশ্লেষকদের মত।
এছাড়া সামরিক জোট, আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘের ভূমিকা এবং আঞ্চলিক রাজনীতিও বড় শক্তিগুলোর সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে।
সমালোচনা ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাখ্যা
যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচকরা দাবি করেন, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে শক্তির ভারসাম্য ব্যবহার করে দুর্বল দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে, তাদের সামরিক পদক্ষেপের উদ্দেশ্য মূলত সন্ত্রাসবাদ দমন, মানবাধিকার রক্ষা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
বিতর্ক চলছেই
বিশ্ব রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বিতর্ক সহজে শেষ হওয়ার নয়। কারণ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সামরিক শক্তি, কূটনীতি এবং বৈশ্বিক স্বার্থ—সবকিছু মিলেই বড় শক্তিগুলোর সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করে।
