পুত্র ও পুত্রবধূর হাতে আক্রান্ত জন্মদাত্রী মা
আবারো চরম সামাজিক অবক্ষয়ের নিদর্শন মিলল কাঞ্চনমালা এলাকায়। জানাগেছে গোলাঘাটি বিধানসভার অন্তর্গত কাঞ্চনমালা এলাকার ২ নং ওয়ার্ডের মৃত নিতাই মজুমদারের ছোট ছেলে কর্ণজিৎ মজুমদার গত বেশ কয়েক বছর আগে দিপালী দাস নামে এক ডিভোর্সি মহিলাকে বিবাহ করে।বিয়ের পর বেশ অনেক দিন ভালো থাকলেও কর্ণজিৎ মজুমদারের বৃদ্ধা মা সন্ধ্যা মজুমদারের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে পুত্রবধূ দিপালী দাস এবং পুত্র কর্ণজিৎ মজুমদার।তাদের পারিবারিক এইসব বিষয় নিয়ে এলাকায় একাধিকবার মীমাংসা সভাও বসেছিল কিন্তু পুত্রবধূ দিপালী দাসের জন্য এলাকার মাতব্বরেরা সঠিকভাবে মীমাংসা করতে পারেনি। এরই মধ্যে শনিবার দুপুরে দিপালী দাস তার বৃদ্ধা শাশুড়ি সন্ধ্যা মজুমদারকে মারধোর শুরু করে । এতে কর্ণজিৎ মজুমদারের সম্পূর্ণ ইশারা ছিল বলে অভিযোগ করেন নির্যাতিতা শাশুড়ি সন্ধ্যা মজুমদার। পরে স্থানীয় এলাকাবাসীদের পক্ষ থেকে খবর দেওয়া হয় আমতলী থানায়। খবর পেয়ে আমতলী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে দ্রুত ছুটে এসে সম্পূর্ণ ঘটনাটি সরজমিনে প্রত্যক্ষ করে এবং কর্ণজিৎ মজুমদার ও তার স্ত্রী দিপালী দাস কে কড়া হুঁশিয়ারি দেন যে বৃদ্ধা মায়ের উপর আক্রমণের ঘটনাটি সামাজিক এবং আইনের চোখে কোনমতেই মানানসই নয়। নির্যাতিতা বৃদ্ধা সন্ধ্যা মজুমদার পুলিশের সামনে দুই চোখের জল ফেলতে ফেলতে এই নির্যাতনের ঘটনাটি বিস্তারিত ভাবে জানান এবং তিনি জানিয়েছেন এই নিয়ে বেশ কয়েকদিন উনাকে মারধর করেছে পুত্রবধু। খবর পেয়ে ছুটে আসেন কাঞ্চনমালা গ্রাম পঞ্চায়েতের ২ নং ওয়ার্ডের সদস্য সুধীর চৌধুরী। জানাগেছে এই ব্যাপারে আমতলী থানার পুলিশ নির্দিষ্ট ধারায় মামলা গ্রহণ করবে পুত্র কর্ণজিৎ মজুমদার এবং পুত্রবধূ দিপালী দাসের বিরুদ্ধে। পাড়ার পঞ্চায়েত সদস্য সুধীর চৌধুরী সহ গোটা পাড়ার মানুষ দাবি করছে এই ধরনের কুলাঙ্গার পুত্র ও পুত্রবধূর কর্মকাণ্ডের ফলে পাড়ার কিংবা এলাকার সভ্য সমাজ কলঙ্কিত হচ্ছে বলে দাবি করেছে। নিজের পুত্র এবং পুত্রবধূর দ্বারা এই ধরনের জঘন্য ঘটনায় রাজ্য মহিলা কমিশন এবং রাজ্য মানবাধিকার কমিশন কি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করবে! যে মা তার সন্তানদের দশ মাস দশ দিন গর্ভে ধারণ করে জন্ম দেওয়ার পর মানুষ করে তুলে যাতে তাদের শেষ বয়সে একমাত্র ভরসা হয় সন্তানরা কিন্তু সেই সন্তানদের হাতেই যদি গর্ভধারিনী মা নির্যাতনের শিকার হয় তাহলে নিশ্চয়ই সেটা সমাজের চোখে বেমানান। তবে এই ধরনের ঘটনায় গোটা কাঞ্চনমালা এলাকার মানুষ পুত্র কর্ণ জিৎ মজুমদার এবং পুত্রবধূ দিপালী দাসের কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছে
