শান্তিরবাজার মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে দালাল চক্রের প্রতারণার অভিযোগ,
জমি হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা ঘিরে চাঞ্চল্য
নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা ৫ মে : শান্তিরবাজার মহকুমাশাসকের কার্যালয়ে দালাল চক্রের সক্রিয়তা ও প্রতারণার অভিযোগ ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ, সাধারণ মানুষ জমি কেনাবেচা বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরির জন্য কার্যালয়ে এলে একদল দালালের ফাঁদে পড়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সম্প্রতি এমনই এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বিরচন্দ্র মনু এলাকার বাসিন্দা সুনিল দেবনাথের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তির পরিবর্তে একই নামের অন্য একজনকে হাজির করে অবৈধভাবে জমির দলিল তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছিল। ঘটনাটি বীরচন্দ্র তহশীলের অন্তর্গত উত্তর তাকমা এডিসি ভিলেজের। জানা যায়, স্থানীয় বাসিন্দা স্বাধীন কুমার নোয়াতিয়ার দুই ছেলে, বিষ্ণু কুমার নোয়াতিয়া ও বিষ্ণু পদ নোয়াতিয়া। নামের সামান্য পার্থক্যকে কাজে লাগিয়ে অভিযুক্ত সুনিল দেবনাথ মৃত এক ভাইয়ের পরিবারের সদস্যদের বাদ দিয়ে অপর ভাইকে সামনে এনে জমি বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু করেন।
তবে ক্রেতা-বিক্রেতার আবেদনের ভিত্তিতে নির্ধারিত শুনানির দিনেই বিষয়টি ধরা পড়ে। জমির খতিয়ানে যেখানে নাম রয়েছে বিষ্ণু কুমার নোয়াতিয়া, সেখানে শুনানির জন্য উপস্থিত করা হয় বিষ্ণু পদ নোয়াতিয়া নামধারী এক ব্যক্তিকে। উপস্থিত ব্যক্তির কথাবার্তায় অসংগতি লক্ষ্য করে সন্দেহ হয় দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক তথা শান্তিরবাজার মহকুমার অতিরিক্ত মহকুমাশাসক কমল দেববর্মার।
পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে স্পষ্ট হয়, খতিয়ানভুক্ত ব্যক্তি উপস্থিত নেই এবং অন্য একজনকে দেখিয়ে জমি লেনদেনের চেষ্টা করা হচ্ছে। বিষয়টি সামনে আসতেই অতিরিক্ত মহকুমাশাসক অভিযুক্ত সুনিল দেবনাথের বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করেন। এ বিষয়ে সুনিল দেবনাথ দাবি করেন, নামের মাঝখানে পদবির বিভ্রান্তির কারণেই এই ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।
যদিও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এর আগেও তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। বর্তমানে এই ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শুধুমাত্র নোটিশ জারি করেই কি দায়িত্ব শেষ হবে, নাকি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সেই দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন শান্তিরবাজার মহকুমার বাসিন্দারা।
