ত্রিপুরায় কমলা সতর্কতা ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাসে সতর্ক থাকার নির্দেশ প্রশাসনের

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা ২৭ এপ্রিল : ত্রিপুরা জুড়ে আগামী দু’দিন অস্থির আবহাওয়ার পূর্বাভাস ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে। আবহাওয়া দফতর রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের আশঙ্কায় জারি করেছে কমলা সতর্কতা। মৌসম বিভাগের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত রাজ্যের একাধিক এলাকায় মাঝারি থেকে প্রবল বজ্রঝড়, দমকা হাওয়া, বিদ্যুৎ চমকানো এবং কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষ করে খোয়াই ও পশ্চিম ত্রিপুরা জেলায় আবহাওয়ার প্রভাব বেশি পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই দুই জেলায় ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।আবহাওয়াবিদদের মতে, বিচ্ছিন্নভাবে ভারী বৃষ্টিপাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
অন্যদিকে, রাজ্যের বাকি জেলাগুলিতে জারি করা হয়েছে হলুদ সতর্কতা।সেখানে বজ্রঝড় ও দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও তার প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। এদিকে, গত দু’দিন ধরেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে। কুমারঘাট, ফটিকরায়, সোনামুড়া, শান্তিরবাজার, জোলাইবাড়ি, ধর্মনগর সহ একাধিক এলাকায় প্রবল ঝড়ে ভেঙে পড়েছে গাছ, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাড়িঘর, ধানক্ষেত ও রাস্তাঘাট। কোথাও গাড়ির উপর গাছ ভেঙে পড়েছে, আবার কোথাও ঝড়ে উড়ে গেছে ঘরের চালা।
বিদ্যুৎ পরিষেবাও ব্যাহত হয়েছে বহু এলাকায়। কমলা সতর্কতা বিপজ্জনক আবহাওয়ার সম্ভাবনা। জনজীবনে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে। প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই বিপর্যয় মোকাবিলা দলগুলিকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নিচু এলাকায় জল জমার সম্ভাবনা থাকায় বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে। গাছ পড়ে রাস্তা অবরুদ্ধ হলে দ্রুত সরানোর ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ বিভ্রাট মোকাবিলায় বিদ্যুৎ দফতরের প্রস্তুতি, জরুরি পরিষেবা সচল রাখতে কন্ট্রোল রুম সক্রিয় রাখা এবং স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য।
অন্যদিকে সাধারন মানুষের জন্য পরামর্শ স্বরুপ বলা হয়েছে, অপ্রয়োজনীয় বাইরে বের না হওয়া, বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গা এড়িয়ে চলা, গাছের নিচে বা বৈদ্যুতিক খুঁটির কাছে না দাঁড়ানো, ঘরের ভিতরে নিরাপদ স্থানে থাকা, সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলা ইত্যাদি। প্রাক-বর্ষার সময় এমন ঝড়-বৃষ্টির ঘটনা অস্বাভাবিক নয়, তবে এবারের ঝড়ের তীব্রতা বেশি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ফলে আগামী দু’দিন ত্রিপুরা জুড়ে আবহাওয়ার অস্থিরতা বজায় থাকতে পারে।প্রশাসনের প্রস্তুতি এবং সাধারণ মানুষের সতর্কতাই এই পরিস্থিতি মোকাবিলার মূল চাবিকাঠি বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।


