মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল বর্তমানে শাসক দলের তহবিলে পরিনত : আশিস সাহা
নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা ২২ এপ্রিল : ত্রিপুরার রাজনৈতিক পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের ব্যবহারকে কেন্দ্র করে।সরাসরি শাসকদলের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব ও তহবিলের অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে বিস্ফোরক আক্রমণ শানিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশিস কুমার সাহা। তিনি তীব্র ভাষায় বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল এখন আর সাধারণ মানুষের তহবিল নেই, এটি কার্যত ভারতীয় জনতা পার্টির দলীয় তহবিলে পরিণত হয়েছে। জনগণের টাকায় গড়া এই তহবিলকে নির্বাচনী স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা চরম অনৈতিক এবং গণতন্ত্রের পরিপন্থী।
আশিস সাহা অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক এডিসি নির্বাচনোত্তর হিংসায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সরকার শুধুমাত্র বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছে। তাঁর বক্তব্য, এই সিদ্ধান্ত শুধু পক্ষপাতদুষ্ট নয়, এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। তিনি বলেন, ত্রিপুরায় রাজনৈতিক হিংসা নতুন কিছু নয়। অতীতে কংগ্রেস ও ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)-এর অসংখ্য কর্মী-সমর্থক শাসকদলের আক্রমণের শিকার হয়েছেন। তাঁদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর হয়েছে, পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছে। কিন্তু তখন কোথায় ছিল মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল? কেন তাঁদের পাশে দাঁড়ায়নি সরকার ? এডিসি নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজ্যের ধলাই, সিপাহিজলা, উনকোটি, খোয়াই ও উত্তর ত্রিপুরা সহ একাধিক জেলায় হিংসার অভিযোগ সামনে এসেছে। বিরোধীদের দাবি, তিপরা মথা-র কিছু সমর্থকদের হাতে আক্রান্ত হয়েছেন বিজেপি কর্মীরা।তবে এই হিংসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দ্বিচারিতার অভিযোগ তুলেছেন আশিস সাহা।
তিনি বলেন, একদিকে মাঠে-ঘাটে রক্ত ঝরছে, সাধারণ মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে, আর অন্যদিকে রাজধানীতে শাসকদল ও তিপরা মথার শীর্ষ নেতৃত্বদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠক হচ্ছে। দিল্লিতে ডাকে সাড়া দেওয়া, একসঙ্গে মঞ্চ ভাগ করে নেওয়া, সবই চলছে। তাহলে এই হিংসার দায় কে নেবে ? এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা আক্রান্ত বিজেপি কর্মীদের জন্য ৬৫ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তা ঘোষণার পর বিরোধীদের ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। আশিস সাহা সরাসরি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, ত্রাণ তহবিল কি শুধুই বিজেপি কর্মীদের জন্য?
এই রাজ্যে কি বিরোধী দলের কর্মীরা মানুষ নন? তাদের ওপর হামলা হলে তাঁদের জন্য কোনো সহায়তা নেই কেন ? এদিকে ধনপুর কেন্দ্রের বাম সমর্থিত প্রার্থী কৌশিক চন্দও সামাজিক মাধ্যমে অভিযোগ করে বলেন, ২০২৩ সালে বামফ্রন্ট প্রার্থী হওয়ার অপরাধে ১৭ বার হামলার শিকার হয়েছেন তিনি, তাঁর বাড়িঘর ভাঙচুর হয়েছে, তবুও তিনি এক টাকাও সাহায্য পাননি। তাহলে এই তহবিলের ব্যবহার কীসের ভিত্তিতে হচ্ছে ? আশিস সাহার দাবি, রাজ্যে এমন হাজারো ঘটনা রয়েছে যেখানে বাম ও কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকরা আক্রান্ত হয়েছেন, কিন্তু তাঁদের পাশে প্রশাসন বা সরকার দাঁড়ায়নি। তাঁর কথায়, এই সরকার স্পষ্টভাবে দলীয় রং দেখে সাহায্য করছে। এটি গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক প্রবণতা। তিনি আরও বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল কোনো ব্যক্তিগত বা দলীয় সম্পত্তি নয়। এটি রাজ্যের প্রতিটি নাগরিকের জন্য।
সেখানে বৈষম্য, পক্ষপাত বা রাজনৈতিক বিভাজনের কোনো স্থান থাকতে পারে না। শেষে তিনি প্রশাসনের প্রতি কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, ত্রাণ তহবিল বণ্টনে অবিলম্বে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে সমস্ত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সমানভাবে আর্থিক সহায়তা দিতে হবে। না হলে রাজ্যজুড়ে বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে। এদিকে, এই গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে শাসকদলের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও বাড়ছে ।
