ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ মোকাবিলায় স্বাস্থ্য দফতরের বড় উদ্যোগ, জোরদার হচ্ছে এনসিডি পরিষেবা
নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা ১৮ এপ্রিল ২০২৬ : অসংক্রামক রোগ বিশেষ করে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। শুক্রবার আগরতলা মহাকরণে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্ত্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় স্টার এনসিডি (STAR NCD) গবেষণা প্রকল্পের পর্যালোচনা সভা।
এই প্রকল্পটি ন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্রনিক ডিজিজ কন্ট্রোল, এইমস নয়াদিল্লি, আগরতলা গভঃ মেডিকেল কলেজ ও জিবিপি হাসপাতাল এবং জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন ত্রিপুরার যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত একটি ইমপ্লিমেন্টেশন রিসার্চ প্রোগ্রাম। এর মূল লক্ষ্য হলো অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে জাতীয় কর্মসূচির আওতায় স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী করা। সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের মিশন অধিকর্তা সাজু ওয়াহিদ এ, স্বাস্থ্য অধিকারের অধিকর্তা ডাঃ দেবশ্রী দের্ব্বমা, পরিবার কল্যাণ ও রোগ প্রতিরোধ অধিকর্তা ডাঃ অঞ্জন দাসসহ বিভিন্ন সংস্থার উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।
আলোচনায় উঠে আসে যে, রাজ্যে ইতিমধ্যেই ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। রোগীদের জন্য বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ব্লক পাবলিক হেলথ ইউনিটে সেমি অটো অ্যানালাইজার বসিয়ে রোগ নির্ণয়ের আধুনিক সুবিধা চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরিষেবার মানোন্নয়নে তদারকি জোরদার করা হয়েছে এবং পঞ্চায়েতি রাজ প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এতে যুক্ত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে, এনসিডি স্ক্রিনিং পরিষেবা রাজ্যের প্রায় ১০০ শতাংশ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। শনাক্ত রোগীদের জন্য পোর্টাল-ভিত্তিক ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু হওয়ায় চিকিৎসা পর্যবেক্ষণ আরও কার্যকর হয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হিসেবে স্বাস্থ্য সচিব জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহারের মাধ্যমে ডেটা এন্ট্রি ও হাসপাতাল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু করা হবে, যাতে ওষুধ সরবরাহ ও পরিষেবা ব্যবস্থাপনা আরও স্বচ্ছ ও সহজ হয়। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধ সবসময় মজুত রাখার উপরও জোর দেওয়া হয়েছে। এদিকে, স্টার এনসিডি গবেষণা দল রাজ্যের, মুখ্যমন্ত্রী রোগ নিরাময় আরোগ্য অভিযান-এর ভূয়সী প্রশংসা করেছে।
এই অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যে ব্যাপকভাবে অসংক্রামক রোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান করা সম্ভব হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রথম দফায় অনুষ্ঠিত এই অভিযানে ১০৩৪টি শিবিরে প্রায় ৭৪ হাজার মানুষ পরিষেবা পেয়েছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের ১৯১টি শিবিরে উপকৃত হয়েছেন প্রায় ৬৬ হাজার মানুষ।
প্রায় ৩.৫ লক্ষ মানুষের ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ পরীক্ষা করা হয়, যার মধ্যে ৭০ হাজারের বেশি উচ্চ রক্তচাপ এবং প্রায় ৩৫ হাজার ডায়াবেটিস রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এছাড়াও, প্রায় ১ লক্ষ ৯৮ হাজার মানুষের মুখগহ্বর ক্যানসার পরীক্ষা এবং ৭৪ হাজারের বেশি মহিলার স্তন, জরায়ু ও মুখের ক্যানসার স্ক্রিনিং করা হয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের মতে, এই ধরনের উদ্যোগের ফলে রাজ্যে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
