নিজস্ব প্রতিনিধি, উদয়পুর: সাতসকালে জোড়া খুনের রক্তে ভেসে উঠল মন্দির নগরী উদয়পুর। রাধাকিশোরপুর থানাধীন চন্দ্রপুর বেলতলী এলাকায় এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে একটি সাজানো গোছানো পরিবার নিমেষেই শেষ হয়ে গেল। অভিযুক্ত ব্যক্তি বটতলী স্কুলের বিজ্ঞান শিক্ষক অজিত দাস। অভিযোগ, তিনি তাঁর স্ত্রী রূপা দাস ও স্কুল পড়ুয়া ছেলে দিগন্ত দাসকে নির্মমভাবে হত্যা করেছেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: স্থানীয় সূত্রে খবর, আজ ভোরবেলা হঠাৎ চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা অজিত দাসের বাড়িতে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে তাঁরা দেখেন, রক্তে ভেসে যাচ্ছে ঘর। রূপা দেবী ও দিগন্তের নিথর দেহ মেঝেতে পড়ে রয়েছে। পরিবারের সদস্য নারায়ণ চন্দ্র দাস জানান, অজিত গত কয়েকদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। স্ত্রী ও সন্তানকে শেষ করে দিয়ে অজিত নিজেও বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বর্তমানে তিনি গোমতী জেলা হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
পুলিশি তৎপরতা: খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান রাধাকিশোরপুর থানার ওসি সঞ্জীব লস্কর এবং মহকুমা পুলিশ আধিকারিকসহ পুলিশের পদস্থ কর্তারা। পুলিশ মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, মানসিক অবসাদ বা পারিবারিক কোনো কলহ থেকেই এই চরম পথ বেছে নিয়েছেন ওই শিক্ষক।
এই নৃশংস ঘটনায় গোটা চন্দ্রপুর বেলতলী এলাকায় শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে। একজন শিক্ষক হয়ে কীভাবে নিজের স্ত্রী ও সন্তানকে এভাবে শেষ করে দিলেন, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গোমতী জেলা পুলিশ ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে।


