যক্ষ্মামুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার, সাব্রুমে ১০০ দিনের ‘মহা-অভিযান’ শুরু
নিজস্ব প্রতিনিধি, সাব্রুম:
যক্ষ্মামুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার সাব্রুম মহকুমায় শুরু হলো এক বিশেষ ১০০ দিনের সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক ‘মহা-অভিযান’। বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস উপলক্ষে সোমবার সাব্রুম মহকুমা হাসপাতালের কনফারেন্স হলে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়।
এই উদ্যোগে নেতৃত্ব দিচ্ছে মহকুমা স্বাস্থ্য দপ্তর, যার মূল লক্ষ্য হলো সাব্রুম মহকুমা থেকে যক্ষ্মা সম্পূর্ণ নির্মূল করা। সম্মেলনে উপস্থিত মহকুমা স্বাস্থ্য আধিকারিক (SDMO) ডা. নৃপেন্দ্র রিয়াং জানান, আগামী ২৪ মার্চ থেকে শুরু হয়ে টানা ১০০ দিন ধরে চলবে এই বিশেষ অভিযান। এই সময়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, সন্দেহভাজন রোগীদের চিহ্নিতকরণ এবং দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে।
তিনি পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, বর্তমানে সাব্রুম মহকুমায় মোট ৪৭ জন যক্ষ্মা আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যার মধ্যে ২ জন শহরাঞ্চলের বাসিন্দা। এই সংখ্যাকে শূন্যে নামিয়ে আনাই এখন স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রধান লক্ষ্য বলে তিনি স্পষ্ট করেন।
অন্যদিকে, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. সৌমিক হাজরা জানান, এই কর্মসূচির মূল অনুষ্ঠান আগামীকাল নেতাজি পাড়া এলাকায় অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, “যক্ষ্মা কোনো অভিশাপ নয়। আধুনিক চিকিৎসা ও সঠিক সময়ে চিকিৎসা গ্রহণ করলে এই রোগ সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য।” তিনি আরও বলেন, সমাজে যক্ষ্মা নিয়ে প্রচলিত ভয়, লজ্জা ও কুসংস্কার দূর করা এই অভিযানের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
এই ১০০ দিনের অভিযানে স্বাস্থ্যকর্মীরা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যক্ষ্মা সংক্রান্ত সঠিক তথ্য, প্রতিরোধের উপায় এবং চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরবেন। পাশাপাশি, যক্ষ্মা আক্রান্তদের নিয়মিত চিকিৎসা ও পুষ্টি সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
চিকিৎসকরা এই মহতী উদ্যোগ সফল করতে সংবাদমাধ্যমসহ সকল স্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন। তাঁদের মতে, সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি পেলেই সাব্রুম খুব শিগগিরই ‘যক্ষ্মামুক্ত মহকুমা’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে সক্ষম হবে।
