মেলাঘর বটতলীর বাসিন্দা তথা এমপিডব্লিউ (MPW) কর্মী প্রসেনজিৎ দাসের আকস্মিক প্রয়াণে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকা জুড়ে। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজের দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে চিরবিদায় নিলেন এই সহজ-সরল ও দায়িত্বশীল স্বাস্থ্যকর্মী।
একসময় তীব্র আর্থিক অনটনের মধ্য দিয়ে কেটেছে প্রসেনজিতের পরিবারের দিন। তাঁর বাবা হরে কৃষ্ণ দাস একসময় সিপিএম দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরিবারের সেই চরম দুর্দশার কথা বিবেচনা করেই প্রসেনজিৎ দাসকে চাকরি দেওয়া হয়েছিল। চাকরি পাওয়ার পর নিজের অক্লান্ত পরিশ্রমে পরিবারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছিলেন তিনি। করোনা মহামারী থেকে শুরু করে ভয়াবহ বন্যা—সব পরিস্থিতিতেই নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের সেবা করেছেন প্রসেনজিৎ।
গতকাল থেকেই তাঁর শরীরটা খুব একটা ভালো যাচ্ছিল না। তা সত্ত্বেও দায়িত্বকে প্রাধান্য দিয়ে আজ তিনি উরমাই প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কাজে যোগ দেন। কিন্তু ডিউটি চলাকালীন হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে যান প্রসেনজিৎ। তড়িঘড়ি তাঁকে মেলাঘর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
মৃত্যুকালে তিনি রেখে গেছেন স্ত্রী সহ ১৮ মাসের একটি শিশু এবং ৯ বছরের এক সন্তানকে। অবোধ শিশুদের ভবিষ্যৎ আর পরিবারের এই করুণ পরিণতি দেখে স্তম্ভিত গোটা এলাকা।