Home » Blog » খাদ্য দপ্তরের স্টোরকিপারদের তীব্র ক্ষোভ

খাদ্য দপ্তরের স্টোরকিপারদের তীব্র ক্ষোভ

সরকারি ছুটিতেও কাজ করতে বাধ্য খাদ্য দপ্তরের স্টোরকিপাররা

by Planet Tripura
0 comments 103 views

সরকারি ছুটিতেও কাজ করতে বাধ্য খাদ্য দপ্তরের স্টোরকিপাররা, তীব্র ক্ষোভ কর্মীদের মধ্যে

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা: রাজ্যের খাদ্য দপ্তরে কর্মরত স্টোরকিপারদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দানা বাঁধছে। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ছুটি এবং সাপ্তাহিক বন্ধের দিনগুলোতেও তাঁদের জোরপূর্বক কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। ঠিকাদারি ব্যবস্থার চরম অসঙ্গতি এবং প্রশাসনের খামখেয়ালি সিদ্ধান্তের খেসারত দিতে হচ্ছে প্রায় ২৫০ থেকে ২৫৫ জন কর্মীকে।

নিয়ম বনাম বাস্তব: কাগজেই সীমাবদ্ধ সরকারি ছুটি!

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের কাজের সময়সীমা সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। বর্তমানে সপ্তাহের দ্বিতীয় ও চতুর্থ শনিবারের পাশাপাশি চারটি শনিবারই সরকারি ছুটি হিসেবে নির্ধারিত রয়েছে। কিন্তু খাদ্য দপ্তরের স্টোরকিপারদের ক্ষেত্রে এই নিয়মের কোনো বালাই নেই।

জানা গেছে, রাজ্যে এফসিআই (FCI) ও সিডব্লিউসি (CWC)-র মোট ৫টি প্রধান খাদ্য গুদামের পাশাপাশি বিভিন্ন মহকুমা ও ব্লক এলাকায় রাজ্য সরকারের অধীনে আরও প্রায় ১৩৩টি খাদ্য গুদাম রয়েছে। এসব গুদামে কর্মরত স্টোরকিপারদের নিয়মিতভাবে সরকারি ছুটি, উৎসবের দিন, এমনকি শনি ও রবিবারেও ডিউটি করতে হচ্ছে।

ক্ষোভের মূলে ঠিকাদারদের গাফিলতি ও দপ্তরের ‘বিশেষ নির্দেশ’

কর্মীদের অভিযোগের তির মূলত ঠিকাদারি ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনা এবং দপ্তরের কিছু সিদ্ধান্তের দিকে:

  • ঠিকাদারদের শর্ত লঙ্ঘন: রেশন সামগ্রী গুদাম থেকে বিভিন্ন ডিলারের কাছে সরবরাহ এবং গুদামে খাদ্যশস্য মজুতের কাজ ঠিকাদারদের মাধ্যমে হয়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই তারা চুক্তির শর্ত মেনে সময়ে কাজ করে না। ফলে পণ্য পরিবহন ও লোড-আনলোডের কাজে অতিরিক্ত সময় নষ্ট হয়, যার পুরো চাপ এসে পড়ে স্টোরকিপারদের ওপর।

  • ছুটি বাতিলের ট্রেন্ড: অভিযোগ, ২০১৮ সালের পর থেকে প্রায় প্রতিটি সরকারি ছুটির আগেই খাদ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে বিশেষ নির্দেশ জারি করে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ছুটি বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে। ফলে সপ্তাহে সাতদিনই কার্যত কাজ করতে হচ্ছে অনেক কর্মীকে।

  • অসুস্থতাতেও রেহাই নেই: চরম অসুস্থতার ক্ষেত্রেও কর্মীরা পর্যাপ্ত ছুটি বা মানবিক সুবিধা পাচ্ছেন না বলে দাবি করেছেন।

“অন্যান্য সরকারি কর্মীরা ছুটির দিন পরিবার বা ব্যক্তিগত কাজে সময় কাটাতে পারেন, অথচ আমাদের ক্ষেত্রে কোনো ছুটি নেই। সবচেয়ে বড় কথা, সরকারি ছুটির দিনে এই অতিরিক্ত খাটুনির জন্য কোনো বাড়তি ভাতা বা ক্ষতিপূরণও দেওয়া হয় না।”

বিক্ষুব্ধ কর্মীবৃন্দ

সচিবের নতুন নির্দেশে জ্বলল ক্ষোভের আগুন

উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই গত ৫ জুন খাদ্য দপ্তরের সচিব ও অধিকর্তা সুমিত লোধ একটি নতুন নির্দেশিকা জারি করেছেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী শনিবার ছুটি থাকার কথা থাকলেও, ওই নির্দেশে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের কাজে যোগ দিতে বলা হয়। এই সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে কর্মীদের মধ্যে নতুন করে ক্ষোভের পারদ চড়েছে।

মেলেনি দপ্তরের প্রতিক্রিয়া

এই গুরুতর অভিযোগগুলির বিষয়ে খাদ্য দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও, দপ্তরের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আপাতত ভুক্তভোগী কর্মীদের দাবি— সরকারি ছুটি ও শ্রম আইন সংক্রান্ত আইনি বিধান যেন তাঁদের ক্ষেত্রেও যথাযথভাবে কার্যকর করা হয় এবং এই দীর্ঘদিনের শোষণমূলক সমস্যার দ্রুত স্থায়ী সমাধান করা হোক।

You may also like

Leave a Comment