Home » Blog » ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক অপসারণে হাইকোর্টের বড় নির্দেশ

ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক অপসারণে হাইকোর্টের বড় নির্দেশ

by Planet Tripura
0 comments 49 views

ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক অপসারণ বিতর্কে আদালতের হস্তক্ষেপ, স্থগিতাদেশে পুনর্বহালের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা ৯ মে : ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিভাগের চুক্তিভিত্তিক সহকারী অধ্যাপক সুমন্ত সাহার আকস্মিক অপসারণের ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে। ত্রিপুরা হাইকোর্ট অন্তর্বর্তী নির্দেশে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ জারি করে অবিলম্বে তাকে পূর্বপদে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছে।

গত ২৮ এপ্রিল এই কাগজে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে প্রথম সামনে আসে এই অপসারণকে ঘিরে অনিয়ম, পক্ষপাতিত্ব এবং দীর্ঘদিন কর্মরত এক শিক্ষকের প্রতি অবিচারের অভিযোগ। সেই প্রকাশনার পর বিষয়টি জনমনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক আদালতের দ্বারস্থ হন।

জানা যায়, ২০০৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগে লেকচারার পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। সেই প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত হয়ে ২০০৮ সালে চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন সুমন্ত সাহা।এরপর প্রায় ১৮ বছর ধরে নিয়মিতভাবে তার চুক্তি নবীকরণ করা হলেও চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল হঠাৎ করে রেজিস্ট্রার (ইন-চার্জ) বিভাগের প্রধানকে নির্দেশ দেন তাকে দায়িত্ব পালন করতে না দেওয়ার জন্য। কারণ হিসেবে জানানো হয়, তার চুক্তির মেয়াদ আর বাড়ানো হয়নি।

এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুমন্ত সাহা হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। বিচারপতি বিশ্বজিত পালিত মামলাটি শুনানি করেন। শুনানিতে আবেদনকারীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, দীর্ঘদিন ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করেও তিনি স্থায়ী নিয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। অপরদিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যুক্তি দেয়, তিনি চুক্তিভিত্তিক কর্মী হওয়ায় স্থায়ী নিয়োগ দাবি করার অধিকার নেই।

দুই পক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনা করে আদালত প্রাথমিকভাবে পর্যবেক্ষণ করে যে, দীর্ঘ সময় ধরে একই ব্যক্তির কাছ থেকে কাজ নেওয়ার পর হঠাৎ কোনো সুযোগ না দিয়েই তাকে অপসারণ করা হয়েছে, যা অযৌক্তিক এবং প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। সেই প্রেক্ষিতে আদালত অপসারণের সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ জারি করে তাকে পুনর্বহালের নির্দেশ দেয় এবং মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্বে বহাল রাখতে বলে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, এই কাগজে প্রকাশিত আগের প্রতিবেদনে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অসঙ্গতি, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অবমূল্যায়ন এবং প্রশাসনিক বৈষম্যের অভিযোগ উঠে এসেছিল। আদালতের পর্যবেক্ষণের সঙ্গে সেই অভিযোগগুলির একাধিক দিকের মিল পাওয়া গেছে। এই ঘটনার পর নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে ১৮ বছর ধরে কাজ করানোর পর হঠাৎ অপসারণ কেন ?

স্থায়ী নিয়োগে উপেক্ষার কারণ কী ? প্রশাসনিক স্বচ্ছতা কোথায় ? শিক্ষা মহলের একাংশ মনে করছে, এই রায় ভবিষ্যতে চুক্তিভিত্তিক শিক্ষকদের অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে উঠতে পারে। ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বিতর্ক এখন আর কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা এবং শিক্ষাক্ষেত্রে নীতির প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর গোটা ঘটনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য, সময়মতো প্রকাশিত একটি সংবাদ বৃহত্তর পরিবর্তনের পথ দেখাতে পারে।

You may also like

Leave a Comment