আগরতলা রেল স্টেশনকে নেশাপাচারের করিডোর হিসেবে ব্যবহার,
মহিলাদের সক্রিয়তা, GRP পুলিশের সাফল্যে উন্মোচিত চক্র
নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা ৯ মে: রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কেন্দ্র আগরতলা রেল স্টেশনকে ক্রমশ নেশা পাচারের করিডোর হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, এমনই উদ্বেগজনক চিত্র সামনে এসেছে সাম্প্রতিক এক অভিযানে।
শনিবার বিকেল প্রায় ৩টা নাগাদ GRP আগরতলা থানার পুলিশের তৎপরতায় এক তরুণীকে বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতার নাম প্রিয়া আক্তার (১৯)। সে পশ্চিম আগরতলা থানার অন্তর্গত ভাটি অভয়নগরের বাসিন্দা। রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (RPF) পোস্ট এবং পে-অ্যান্ড-ইউজ টয়লেটের মাঝামাঝি পার্কিং এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। তল্লাশিতে তার ট্রলি ব্যাগ থেকে মোট ১১.২২০ কেজি শুকনো গাঁজা উদ্ধার হয়, যার আনুমানিক কালোবাজার মূল্য প্রায় ২ লক্ষ টাকা।
এই ঘটনায় GRP আগরতলা থানায় একটি নির্দিষ্ট মামলা (নং ২০২৬/GRP/০২৯, তারিখ ০৯/০৫/২০২৬) দায়ের করা হয়েছে। NDPS Act, 1985-এর ২০(b)(ii)(B)/২৯ ধারায় মামলা রুজু করে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জিআরপি ওসি রাজু ভূমিক জানান, নেশা পাচারের ক্ষেত্রে এখন মহিলাদের ব্যবহার বাড়ছে, যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়ানো যায়।
এই ঘটনাও সেই প্রবণতারই একটি উদাহরণ। রেলপথকে ব্যবহার করে সহজে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে মাদক পাচার করার সুযোগ থাকায় পাচারকারীরা আগরতলা রেল স্টেশনকে করিডোর হিসেবে বেছে নিচ্ছে। তবে এই ঘটনায় GRP আগরতলা থানার পুলিশের সাফল্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
তাদের তীক্ষ্ণ নজরদারি এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই বিপুল পরিমাণ মাদক আটক করা সম্ভব হয়েছে। পুলিশের গোয়েন্দা শাখা আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে জানা গেছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের পাচারচক্রকে আরও দ্রুত শনাক্ত ও দমন করা যায়।
রেলপথে মাদক পাচার রোধে ইতিমধ্যেই নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, যাত্রীদের সচেতনতা বাড়ানো এবং সন্দেহজনক গতিবিধির উপর কড়া নজর রাখা, এই দুই পদক্ষেপই আগামী দিনে বড় ভূমিকা নেবে। এই ঘটনায় আবারও প্রমাণিত, নেশা পাচার রোধে পুলিশের নিরবচ্ছিন্ন তৎপরতা এবং গোয়েন্দা নজরদারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।