Table of Contents
সরকারি নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি! সাব্রুম শিক্ষা দপ্তরে চরম অরাজকতা, বিকেল ৪টে বাজলেই ফাঁকা অফিস
নিজস্ব প্রতিনিধি, সাব্রুম, ৯ জুন: রাজ্য সরকারের কড়া নির্দেশ— সপ্তাহে পাঁচ দিন অফিস এবং সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বাধ্যতামূলক ডিউটি করতে হবে। কিন্তু সরকারি এই নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দক্ষিণ ত্রিপুরার সাব্রুম মহকুমা বিদ্যালয় পরিদর্শক (IS) কার্যালয়ে চলছে চরম স্বেচ্ছাচারিতা ও নিয়মভঙ্গের মহোৎসব। সরকারি দপ্তরের এই ‘দিলদরিয়া’ মেজাজে তীব্র ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
কাঠগড়ায় সাতচাঁদের আইএস: অজুহাতের পাহাড়!
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সাতচাঁদ বিদ্যালয় পরিদর্শক (IS) ইরনজয় রিয়াং। স্থানীয়দের গুরুতর দাবি, মাসের মধ্যে মাত্র ৭ দিনও তাঁকে দপ্তরে দেখা যায় না। দাপ্তরিক কাজে চরম গাফিলতির প্রশ্ন উঠলেই তাঁর মুখে তৈরি থাকে একগুচ্ছ রেডিমেড অজুহাত:
-
কখনও জেলা কার্যালয়ে বৈঠক,
-
কখনও আগরতলায় রাজ্য শিক্ষা গবেষণা পর্ষদে (SCERT) মিটিং,
-
আবার কখনও বিদ্যালয় পরিদর্শনের দোহাই।
দিনের পর দিন তিনি এভাবে অফিস কামাই করলেও বাস্তবে তাঁর সেই পরিদর্শন কতটা কার্যকর, তা নিয়ে সচেতন মহল গভীর সংশয় প্রকাশ করেছে।
ক্যামেরার সামনে কর্মীদের চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি, তেলেবেগুনে জ্বললেন আধিকারিক
ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে মঙ্গলবার বিকেল ৪টের পর সাংবাদিকরা যখন সাতচাঁদ ডেপুটি-বিদ্যালয় পরিদর্শক ড্যানিয়েল রিয়াংয়ের দ্বারস্থ হন, তখন সদুত্তর দেওয়ার বদলে তিনি সংবাদমাধ্যমের ওপর তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠেন।
তবে আধিকারিক রেগে গেলেও থলের বেড়ালটি কিন্তু হাটে ভেঙে দিয়েছেন দপ্তরেরই এক কর্মী। ক্যামেরার সামনেই তিনি অত্যন্ত সততার সঙ্গে স্বীকার করে নেন যে— “সাতচাঁদ কার্যালয়ের মোট ছয়জন কর্মীই প্রতিদিন বিকেল ৪টের মধ্যে অফিস গুটিয়ে বাড়ি চলে যান!”
রুপাইছড়ি কার্যালয়েও তালা ঝোলে সাড়ে ৩টেয়!
অরাজকতার এই চিত্র শুধু সাতচাঁদেই সীমাবদ্ধ নেই। রুপাইছড়ি বিদ্যালয় পরিদর্শক কার্যালয়ের ক্যাশ সেকশনেও (Cash Section) চলছে একই খামখেয়ালিপনা। সেখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী কাউকে কিছু না জানিয়েই প্রতিদিন বিকেল সাড়ে ৩টের মধ্যে দরজায় তালা লাগিয়ে উধাও হয়ে যান। দপ্তরের হাজিরা খাতা (Attendance Register) পরীক্ষা করলেই একাধিক কর্মীর নিয়মিত অফিস কামাইয়ের নগ্ন সত্য ফুটে উঠছে।
তদন্তের দাবিতে সরব অভিজ্ঞ মহল
সরকারি কর্মচারীদের এই খেয়ালখুশি আচরণ এবং সরকারি বেতন নিয়ে দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলায় সাব্রুমবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। অভিজ্ঞ মহলের স্পষ্ট বক্তব্য, শিক্ষা দপ্তরের বিভাগীয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যদি অবিলম্বে কোনো আগাম নোটিশ ছাড়া ঝটিকা তদন্তে নামে, তবেই এই কার্যালয়গুলির দুর্নীতির আসল চেহারা সামনে আসবে। এখন দেখার, নিয়ম লঙ্ঘনকারী এই কর্মীদের বিরুদ্ধে রাজ্য প্রশাসন কী শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে।