Home » Blog » প্রশ্নের মুখে বোধজংনগর থানা

প্রশ্নের মুখে বোধজংনগর থানা

প্রশ্নের মুখে বোধজংনগর থানা ও খয়েরপুর পুলিশ ফাঁড়ি

by Planet Tripura
0 comments 62 views

অভিযোগ গ্রহণ, রিসিভ প্রদান, তবুও হয়নি এফআইআর! প্রশ্নের মুখে বোধজংনগর থানা ও খয়েরপুর পুলিশ ফাঁড়ি

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা  : লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে, অভিযোগকারীকে রিসিভ কপিও দেওয়া হয়েছে, হয়েছে পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত, কিন্তু থানায় রেজিস্টার হয়নি কোনও এফআইআর। এমনই এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে বোধজংনগর থানা ও খয়েরপুর পুলিশ ফাঁড়ি।

ঘটনাকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ।অভিযোগ উঠেছে, গুরুতর অপরাধ সংক্রান্ত লিখিত অভিযোগ জমা নেওয়ার পরও কেন তা থানার রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি ? এর ফলে পুলিশের ভূমিকা নিয়েই উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২০ ডিসেম্বর ২০২৫। অভিযোগ অনুযায়ী, খয়েরপুর এলাকার বলদাখালে সুজিত দাসের বাড়িতে দুপুরের দিকে দুই অপরিচিত যুবক হাজির হয়। তারা নিজেদের বাসনপত্র পরিষ্কার করার কর্মী হিসেবে পরিচয় দেয়। প্রথমে স্বাভাবিকভাবে কথা বললেও কিছু সময়ের মধ্যেই বাড়ির নির্জনতার সুযোগ নেয় তারা।

পরিবারের অভিযোগ, ওই দুই যুবক বাড়িতে থাকা পূর্ণিমা দাস সাহার গলা ও কান থেকে স্বর্ণালংকার খুলে নিয়ে দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়। আচমকা ঘটনার জেরে হতবাক হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।ঘটনার পরপরই স্থানীয় খয়েরপুর পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দেওয়া হয়।

পরিবারের দাবি, পুলিশ ঘটনাস্থলে এলেও সেদিন কোনও মামলা রুজু করা হয়নি। পরদিন অর্থাৎ ২১ ডিসেম্বর, পূর্ণিমা দেবীর পক্ষ থেকে খয়েরপুর পুলিশ ফাঁড়িতে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়।অভিযোগপত্রে ঘটনার সময়, অভিযুক্তদের আচরণ, শারীরিক বর্ণনা এবং কীভাবে স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়া হয়েছিল, তার বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা হয়েছিল বলে পরিবারের দাবি। শুধু তাই নয়, অভিযোগ গ্রহণের পর পুলিশ রিসিভ কপিও দেয় বলে জানিয়েছেন তারা।

পরবর্তীতে খয়েরপুর পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ওসি সঞ্জয় সাহার নেতৃত্বে তদন্ত শুরু হয় বলে জানা যায়। কয়েকদিন এলাকায় পুলিশি তৎপরতা দেখা গেলেও অভিযোগকারীদের দাবি, তদন্তে বাস্তবিক কোনও অগ্রগতি হয়নি এবং দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। এরই মধ্যে প্রায় পাঁচ মাস পর ঘটনার মোড় ঘুরে যায়। গত ২১ মে, আমতলী থানাধীন এলাকায় প্রায় একই কৌশলে স্বর্ণালংকার চুরির চেষ্টা করতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ে দুই বহিঃরাজ্যের যুবক।

পরে তাদের ছবি ও খবর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। সেই সংবাদ দেখেই পূর্ণিমা দেবী দাবি করেন, আটক হওয়া ওই দুই যুবকই ডিসেম্বর মাসে তার বাড়িতে এসে স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়েছিল। এরপর গত ২২ মে, পরিবারের সদস্যরা ঘটনার অগ্রগতি জানতে বোধজংনগর থানায় যান। কিন্তু সেখানে গিয়ে তারা আরও বড় ধাক্কা খান বলে অভিযোগ।

পরিবারের দাবি, থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০ ডিসেম্বর বলদাখালে সংঘটিত ওই ঘটনার কোনও রেকর্ড থানার নথিতে নেই। এমনকি থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের বক্তব্য অনুযায়ী, ওইদিন এমন কোনও অপরাধমূলক ঘটনার তথ্য তার কাছে পৌঁছায়নি। এই বক্তব্য সামনে আসতেই নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছিল এবং তার রিসিভ কপিও তাদের কাছে রয়েছে। তাহলে সেই অভিযোগ কোথায় গেল? কেন এফআইআর দায়ের করা হয়নি ? আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, গুরুতর অপরাধ সংক্রান্ত লিখিত অভিযোগ পেলে পুলিশ সাধারণত আইনানুগ প্রক্রিয়ায় তা নথিভুক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

ফলে এই ঘটনায় প্রক্রিয়াগত কোনও ঘাটতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলেও মত উঠছে। এদিকে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের একাংশের অভিযোগ, অপরাধ দমনে গাফিলতির সুযোগে অপরাধীরা আরও সক্রিয় হয়ে উঠছে। অনেকের প্রশ্ন, প্রথম অভিযোগের ভিত্তিতে যদি যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হতো, তাহলে পরবর্তী অনুরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়তো রোধ করা যেত।বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বিরোধীদের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের তরফে এখনও পর্যন্ত বিস্তারিত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বর্তমানে পূর্ণিমা দেবী ও তার পরিবার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযোগ গ্রহণের পর কেন এফআইআর রুজু হয়নি তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা এবং আটক দুই যুবকের সঙ্গে বলদাখালের ঘটনার কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।

সব মিলিয়ে, অভিযোগ গ্রহণ করা সত্ত্বেও যদি তা থানার নথিতে স্থান না পায়, তাহলে সাধারণ মানুষের বিচার পাওয়ার পথ কতটা সুরক্ষিত, সেই প্রশ্নই এখন সামনে উঠে আসছে।

You may also like

Leave a Comment