Home » Blog » ESKUF সিরাপ পাচারের অভিযোগে

ESKUF সিরাপ পাচারের অভিযোগে

তেলিয়ামুড়া থানার তিন পুলিশ কর্মীর বিরুদ্ধে পাচারের অভিযোগ

by Planet Tripura
0 comments 4 views

উদ্ধার হওয়া এসকাফ সিরাপ পাচারের অভিযোগে তেলিয়ামুড়া থানার তিন পুলিশ কর্মীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত

তেলিয়ামুড়া প্রতিনিধি, ২৪ মে : উদ্ধার হওয়া নিষিদ্ধ নেশাজাতীয় “ESKUF” সিরাপ পুলিশের হেফাজত থেকে খোলা বাজারে বিক্রি করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠল তেলিয়ামুড়া থানার তিন পুলিশ কর্মীর বিরুদ্ধে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা পুলিশ সুপার KB Jagadeeswar Reddy অভিযুক্ত তিন পুলিশ কর্মীকে খোয়াই এসপি অফিসে ক্লোজড করে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

অভিযুক্ত পুলিশ কর্মীরা হলেন তেলিয়ামুড়া থানার সেকেন্ড অফিসার তথা ইন্সপেক্টর অজিত দেববর্মা, সাব-ইন্সপেক্টর রাজেন্দ্র রিয়াং এবং কনস্টেবল সুকান্ত দেব

থানা সূত্রে জানা যায়, গত ২০ মে গভীর রাতে মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে এসআই সম্পা দাস-এর নেতৃত্বে মহারাণীপুর এলাকায় মোবাইল ডিউটি চলছিল। সেই সময় TR01BV0637 নম্বরের একটি সন্দেহজনক ইকো গাড়ি রাস্তার ধারে পরিত্যক্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশ সেটিকে আটক করে তল্লাশি চালায়। তল্লাশিতে বিপুল পরিমাণ “ESKUF” সিরাপ উদ্ধার হয় বলে দাবি করা হয়।

পুলিশের পক্ষ থেকে প্রথমে উদ্ধার হওয়া বোতলের সংখ্যা ৬০০ বলে জানানো হলেও, একাধিক সূত্রের দাবি ওই গাড়িতে প্রায় ৬,০০০ বোতল সিরাপ ছিল। অভিযোগ, পাচারকারীদের সঙ্গে বোঝাপড়ার ভিত্তিতে ১,০০০ বোতল গাড়িতে রেখে বাকি ৫,০০০ বোতল একটি “Press” স্টিকার লাগানো WagonR গাড়িতে করে সরিয়ে নেওয়া হয়।

পরবর্তীতে উদ্ধার হওয়া ১,০০০ বোতলের মধ্যে মাত্র ৬০০ বোতল দেখিয়ে বাকি ৪০০ বোতল, যার ব্যাচ নম্বর QEKSL 042 এবং QEKSL 046, খোলা বাজারে নেশা ব্যবহারকারীদের কাছে প্রতিটি ৭০০ টাকা দরে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে দাবি, কয়েকজন নেশাগ্রস্ত যুবকের কাছ থেকেও এই সংক্রান্ত তথ্য ও প্রমাণ মিলেছে।

বর্তমানে “ESKUF” সহ বিভিন্ন Codeine Phosphate জাতীয় কফ সিরাপ যুবসমাজ ও পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশে মাদক হিসেবে অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। সেই কারণে সরকার এই ধরনের সিরাপের উপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছে।

এদিকে ঘটনাটি জেলা পুলিশ সুপারের নজরে আসতেই তিনি বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখেন। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের কিছু সত্যতা মেলায় শনিবার অভিযুক্ত তিন পুলিশ কর্মীকে এসপি অফিসে ক্লোজড করা হয় এবং বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তেলিয়ামুড়া থানার ভূমিকা নিয়ে জনমনে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এর আগেও কয়েক মাস আগে তেলিয়ামুড়ার দুষ্কি এলাকায় বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিল উদ্ধারের ঘটনায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ফলে পুলিশের একাংশের সঙ্গে মাদক পাচারচক্রের যোগসাজশ রয়েছে কিনা, তা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।

You may also like

Leave a Comment