Home » Blog » আগরতলা–রাণী কমলাপতি এক্সপ্রেস এবার নিয়মিত ট্রেন

আগরতলা–রাণী কমলাপতি এক্সপ্রেস এবার নিয়মিত ট্রেন

রাণী কমলাপতি এক্সপ্রেসের নিয়মিতীকরণ

by Planet Tripura
0 comments 40 views

আগরতলা–রাণী কমলাপতি স্পেশাল এবার নিয়মিত এক্সপ্রেস, ত্রিপুরার রেল যোগাযোগে নতুন মাইলফলক

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা  : ত্রিপুরার রেল যাত্রীদের জন্য এলো বড় সুখবর। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার অবসান ঘটিয়ে আগরতলা–রাণী কমলাপতি স্পেশাল ট্রেনকে এবার নিয়মিত ট্রেন হিসেবে চালানোর অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় রেল মন্ত্রক। সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব-এর আবেদনের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এক চিঠির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।

রেল মন্ত্রকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্তমানে চলাচলকারী ০১৬৬৬/০১৬৬৫ আগরতলা–রাণী কমলাপতি স্পেশাল ট্রেন ভবিষ্যতে ১১৬৬৬/১১৬৬৫ নম্বরে আগরতলা–রাণী কমলাপতি এক্সপ্রেস নামে নিয়মিত পরিষেবা দেবে। এই ঘোষণাকে ত্রিপুরার রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা থেকে যাত্রা শুরু করে এই ট্রেন দেশের মধ্যাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর ভোপাল-এর নিকটবর্তী রাণী কমলাপতি রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত চলাচল করে। এই রুট উত্তর–পূর্ব ভারতের সঙ্গে পূর্ব, মধ্য ও উত্তর ভারতের বিস্তৃত রেল সংযোগকে আরও শক্তিশালী করেছে। যাত্রাপথে ট্রেনটি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন অতিক্রম করে বহু রাজ্যের মানুষের জন্য যাতায়াতের নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।

যদিও চূড়ান্ত নিয়মিত সময়সূচি রেলের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে, বর্তমানে স্পেশাল ট্রেন হিসেবে চলার সময়সূচির ধারাবাহিকতায় যাত্রী পরিষেবা বজায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। নিয়মিত ট্রেনের মর্যাদা পাওয়ার ফলে টিকিট বুকিং, যাত্রা পরিকল্পনা এবং পরিষেবা পরিচালনায় আরও স্থায়িত্ব আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র একটি ট্রেন চালুর বিষয় নয়, এটি উত্তর পূর্বাঞ্চলকে জাতীয় রেল মানচিত্রে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার পদক্ষেপ। দীর্ঘদিন ধরে ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার কারণে যোগাযোগের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের মুখে থাকা ত্রিপুরা এখন ধীরে ধীরে দেশের বিস্তৃত রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত হচ্ছে।

এতে শিক্ষা, ব্যবসা, পর্যটন, চিকিৎসা এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব এই সিদ্ধান্তের জন্য কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সাধারণ যাত্রীদের দীর্ঘদিনের দাবি ও সুবিধার কথা বিবেচনা করেই তিনি বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন।কেন্দ্রীয় সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপে শুধু ত্রিপুরা নয়, সমগ্র উত্তর–পূর্বাঞ্চলের মানুষ উপকৃত হবেন বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, সাংসদ হিসেবে বিপ্লব কুমার দেব অতীতেও রাজ্যের অবকাঠামো, যোগাযোগ এবং উন্নয়নমূলক বিভিন্ন বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্তরে উদ্যোগ নিয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। অন্যদিকে, কেন্দ্র ও রাজ্যে একই রাজনৈতিক জোটের সরকার থাকার ফলে অবকাঠামোগত প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি এসেছে বলে সমর্থকদের দাবি।

রেল পরিবহনকে এখনও দেশের সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও বৃহৎ গনপরিবহন ব্যবস্থাগুলির অন্যতম হিসেবে ধরা হয়। সেই প্রেক্ষাপটে ত্রিপুরার মতো ছোট রাজ্যের জন্য একের পর এক দূরপাল্লার ট্রেন পরিষেবা চালু হওয়া রাজ্যের উন্নয়ন ও জাতীয় সংযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আগরতলা–রাণী কমলাপতি এক্সপ্রেসের নিয়মিতীকরণ সেই ধারাবাহিকতায় আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিল।

You may also like

Leave a Comment