Home » Blog » গকুলপুর বিদ্যালয়ে শিক্ষার বেহাল দশা, সরব এলাকাবাসী

গকুলপুর বিদ্যালয়ে শিক্ষার বেহাল দশা, সরব এলাকাবাসী

একই কক্ষে তিন ক্লাস, শিক্ষক নেই— চাঞ্চল্য উদয়পুরে

by Planet Tripura
0 comments 49 views

৮টি শ্রেণির জন্য মাত্র ৬ শিক্ষক! উদয়পুরের পশ্চিম গকুলপুর বিদ্যালয়ে লাটে উঠেছে পঠনপাঠন, বাড়ছে স্কুলছুট

উদয়পুর, ২২ জুন: শিক্ষক স্বল্পতার চরম সংকট, তার ওপর শিক্ষকদের একাংশের খামখেয়ালিপনা ও অনিয়মিত উপস্থিতির জেরে কার্যত ধ্বংসের মুখে উদয়পুরের পশ্চিম গকুলপুর দক্ষিণপাড়া উচ্চ বুনিয়াদী বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অচলাবস্থার কারণে বিদ্যালয়ের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে পড়ুয়ারা, যার ফলে প্রতি বছর আশঙ্কাজনক হারে কমছে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা। এই নিয়ে স্থানীয় শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়টিতে প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত মোট আটটি ক্লাস রয়েছে। অথচ, সমগ্র স্কুলটি পরিচালনার জন্য শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা মাত্র ছয়জন! নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি শ্রেণির জন্য আলাদা শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও, এই বিদ্যালয়ে তা দূর অস্ত। এত কম সংখ্যক শিক্ষক নিয়ে প্রতিদিনের পঠনপাঠন চালানো যেখানে এমনিতেই কঠিন, তার ওপর শিক্ষকদের অনিয়মিত হাজিরা পরিস্থিতিকে আরও নরক গুলজার করে তুলেছে।



শিক্ষক সংকটের জেরে প্রায়শই দুই বা তিনটি শ্রেণিকে একত্রিত করে একই ঘরে বসিয়ে রাখা হয়। ফলে ছাত্র-ছাত্রীরা বিষয়ভিত্তিক সঠিক শিক্ষা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হচ্ছে। সোমবার বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় এক লজ্জাজনক ও চাঞ্চল্যকর চিত্র সামনে আসে:

  • একটি শ্রেণিকক্ষে মাত্র তিনজন পড়ুয়া উপস্থিত ছিল— যার মধ্যে একজন প্রথম শ্রেণির, একজন দ্বিতীয় শ্রেণির এবং অন্যজন তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।

  • সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো, সেই সময় ওই শ্রেণিকক্ষে কোনো শিক্ষকই উপস্থিত ছিলেন না। শিক্ষার্থীরা কার্যত অভিভাবকহীন অবস্থায় বসে ছিল।

অভিযোগ রয়েছে, অনেক সময় শিক্ষক-শিক্ষিকারা শ্রেণিকক্ষে না গিয়ে নিজেদের কক্ষে আড্ডায় মগ্ন থাকেন। ফলে তদারকির অভাবে পড়ুয়ারা পড়াশোনা ছেড়ে খেলাধুলা ও গল্পগুজব করে সময় কাটাচ্ছে। এই চরম অব্যবস্থা প্রসঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, বিদ্যালয়ে মোট ছয়জন শিক্ষক-শিক্ষিকা কর্মরত থাকলেও সোমবার উপস্থিত ছিলেন পাঁচজন। একজন শিক্ষক টেপানিয়া ব্লকে সেন্সাস (আদমশুমারি) সংক্রান্ত সরকারি দায়িত্ব পালনে গেছেন। তবে তিনি স্বীকার করে নেন যে, আটটি শ্রেণির বিপরীতে মাত্র ছয়জন শিক্ষক থাকায় সীমিত পরিকাঠামো নিয়ে পাঠদান প্রক্রিয়া চালাতে প্রতিনিয়ত তাঁদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

এলাকার শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মহলের দাবি, বিদ্যালয়ে শিক্ষার ন্যূনতম মান এবং শৃঙ্খলা না থাকায় বাধ্য হয়ে সচেতন অভিভাবকরা তাঁদের সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে সরিয়ে নিচ্ছেন। ফলে প্রতি বছরই এই সরকারি বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। ভুক্তভোগী অভিভাবকদের সিংহভাগই দিনমজুর ও শ্রমজীবী পরিবারের সদস্য। বেসরকারি স্কুলে পড়ানোর সামর্থ্য না থাকায় তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে এই বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু অভিযোগ, মহকুমা শিক্ষা আধিকারিক বা বিদ্যালয় পরিদর্শকদের (IS) বারবার জানানো সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের এই রহস্যজনক নীরবতায় ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা গকুলপুর এলাকা।

You may also like

Leave a Comment