নিগমের অর্থ যাচ্ছে কোথায়? ২৫ বছরের রাস্তার দুর্ভোগে ডেপুটি মেয়র মনিকা দত্তের বিরুদ্ধে সরব প্রতাপগড়বাসী, তদন্তে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি
আগরতলা, ২২ জুন: আগরতলা পুরনিগমের (AMC) উন্নয়নের দাবি এবং বরাদ্দ অর্থ আসলে কোথায় ব্যয় হচ্ছে, তা নিয়ে এবার সরাসরি প্রশ্ন তুললেন প্রতাপগড় জুয়েলস ক্লাব সংলগ্ন এলাকার ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে বেহাল রাস্তার কারণে চরম ভোগান্তির শিকার হয়ে আসছেন এই এলাকার মানুষ। বারবার প্রতিশ্রুতি মিললেও সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান না হওয়ায়, এবার সরাসরি পুরনিগমের ৪১ ও ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউন্সিলার তথা ডেপুটি মেয়র মনিকা দত্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর সরাসরি অভিযোগ, বিজেপি সরকার এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি ফুটিয়েই নিজেদের দায় সারছেন, কিন্তু বাস্তবে কাজের সময় কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। বছরের পর বছর ধরে নরকযন্ত্রণা সহ্য করতে হলেও জনপ্রতিনিধিদের উদাসীনতার কারণে দীর্ঘ আড়াই দশকেও এই রাস্তার ভাগ্য বদলায়নি।স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভের সাথে জানান, প্রায় ছয় মাস আগে এলাকায় বহু প্রতীক্ষিত একটি পিচ রাস্তার কাজ হয়েছিল। কিন্তু উদ্বোধনের কয়েক মাসের মধ্যেই সেই রাস্তা ভেঙে সম্পূর্ণ জীর্ণশীর্ণ অবস্থায় পরিণত হয়েছে। এলাকাবাসীর স্পষ্ট অভিযোগ:
-
রাস্তা নির্মাণে অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে।
-
সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ারদের যোগসাজশেই এই দুর্নীতি হয়েছে।
-
জনগণের ট্যাক্সের বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ এভাবে অপচয় করা হয়েছে।
“উন্নয়নের নামে পুরনিগমের যে বিপুল টাকা বরাদ্দ হচ্ছে, তা প্রকৃতপক্ষে যাচ্ছে কোথায়? ছয় মাস আগে তৈরি রাস্তা কীভাবে এখনই কঙ্কালসার হয়ে যায়? এই দুর্নীতির সদুত্তর কে দেবে?” — ক্ষুব্ধ প্রতাপগড়বাসী
রাস্তা সংস্কারের নামে এই নয়ছয় রুখতে এবং জন দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে এবার সরাসরি রাজ্যের দূরদর্শী মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাক্তার মানিক সাহার হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন প্রতাপগড় জুয়েলস ক্লাব এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী যেন অবিলম্বে এই নিম্নমানের কাজের তদন্তের নির্দেশ দেন এবং রাস্তাটি দ্রুত চলাচলের উপযোগী করার ব্যবস্থা করেন। প্রশাসন যদি অবিলম্বে এই দুর্নীতি ও বেহাল রাস্তার বিরুদ্ধে কোনো কঠোর পদক্ষেপ না নেয়, তবে আগামী দিনে পুরনিগমের বিরুদ্ধে বৃহত্তর গণ-আন্দোলনে নামার জোরালো হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় ক্ষুব্ধ জনতা।