Home » Blog » কৈলাসহরে কোটি টাকার চরম দুর্নীতি

কৈলাসহরে কোটি টাকার চরম দুর্নীতি

কোটি টাকার ব্লকে চরম দুর্নীতি! বর্ষার মুখে নদী ভাঙনের আতঙ্কে কৈলাসহরে

by Planet Tripura
0 comments 173 views

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৈলাসহর:

আসন্ন বর্ষা। আর তার আগেই মাথার উপর ঝুলছে ভিটেমাটি হারানোর চরম আতঙ্ক। শহর এলাকায় নদী ভাঙন আটকাতে রাজ্য সরকার কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ করলেও, শাসক দলের তকমাদারী ঠিকাদার এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের একাংশ আধিকারিকের জোগসাজশে সেই টাকা লোপাটের মারাত্মক অভিযোগ উঠল। নামকাওয়াস্তে কাজ করে কোটি কোটি টাকা ‘হাফিজ’ করার ফলে এখন অস্তিত্ব সংকটে ঊনকোটি জেলার সদর কৈলাসহরের এক বিশাল অংশের মানুষ। প্রশাসনের এই উদাসীনতায় ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকাবাসীরা।

ঘটনাটি ঘটেছে কৈলাসহর পুর পরিষদের ১৬ নং ওয়ার্ডের সুকান্ত কলোনি এলাকায়। মনু নদীর তীরে অবস্থিত এই কলোনিতে প্রায় দেড়শো পরিবারের বসবাস। প্রতি বছর বর্ষায় মনু নদীর করাল গ্রাসে ভাঙতে ভাঙতে নদী এখন মানুষের বসতবাড়ির একবারে দোরগোড়ায় এসে ঠেকেছে।

এলাকাবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবির পর, রাজ্য সরকারের বন্যা নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের পক্ষ থেকে নদী ভাঙন আটকাতে সিসি ব্লক (CC Block) বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর জন্য প্রায় কোটি টাকারও বেশি অর্থ বরাদ্দ করে টেন্ডার ডাকা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, কাজের শুরুতেই জেঁকে বসেছে দুর্নীতি।

বিশেষ সূত্রে এবং স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে যে সমস্ত দুর্নীতির খতিয়ান সামনে এসেছে তা রীতিমতো চোখ কপালে তোলার মতো:

  • ব্লকের সংখ্যায় কারচুপি: সরকারি গাইডলাইন অনুযায়ী যেখানে মোট ১৮,০০০ ব্লক নির্মাণ করার কথা ছিল, সেখানে ঠিকাদাররা মাত্র ৪,০০০ ব্লক নির্মাণ করে পুরো টাকাই তুলে নিয়েছে বলে অভিযোগ।

  • উচ্চতা ও গুণমানে ফাঁকি: নিয়মানুযায়ী ব্লকগুলোর উচ্চতা ১২ ইঞ্চি হওয়ার কথা থাকলেও, তা বানানো হয়েছে মাত্র ৮ ইঞ্চি।

  • বালি-সিমেন্টের অনুপাতে গলদ: ব্লকে প্রয়োজনীয় সিমেন্ট না দিয়ে শুধু বালি দিয়ে তা তৈরি করা হয়েছে। এমনকি, নদী ভাঙন রোধের ব্লকের জন্য অবৈধভাবে মনু নদী থেকেই বালি তোলা হয়েছে এবং সেই নোংরা বালি পরিষ্কার না করেই ব্লক তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে।

  • রাতের অন্ধকারে কাজ ঢাকা: তড়িঘড়ি করে বানানো এই নিম্নমানের ব্লকগুলো দিনের আলোয় না ফেলে, রাতের অন্ধকারে এলোপাতাড়িভাবে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে যাতে দুর্নীতির প্রমাণ লোপাট করা যায়।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, ব্লক নির্মাণের সময় সাইটে বন্যা নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের কোনো ইঞ্জিনিয়ার বা আধিকারিককে দেখা যায়নি। বিশেষ সূত্রে খবর, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে দপ্তরের আধিকারিক ও ইঞ্জিনিয়ারদের ‘ম্যানেজ’ করেই এই লুটপাট চালানো হয়েছে।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক তথাকথিত নেতার বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে এসে ভারতের নাগরিকত্ব নিয়ে বর্তমানে নিজেকে ‘হিন্দু নেতা’ জাহির করা এক প্রভাবশালী ব্যক্তির পরোক্ষ মদতেই ঠিকাদাররা এই এলাকায় কোটি টাকার দুর্নীতি করার সাহস পেয়েছে। এই চক্রটি কৈলাসহরের আরও অনেক বড় বড় নির্মাণ কাজের সাথে যুক্ত এবং সর্বত্রই এদের দুর্নীতির জাল বিস্তৃত।

অসহায় গ্রামবাসীদের আকুতি: “আমরা দফায় দফায় দপ্তরের আধিকারিক এবং স্থানীয় শাসক দলের নেতাদের কাছে গিয়েছি। কিন্তু সবাই নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। সুকান্ত কলোনির অধিকাংশ মানুষই অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল। নদী ভাঙনে ঘরবাড়ি তলিয়ে গেলে আমাদের আর যাওয়ার কোনো জায়গা থাকবে না।”

কোনো উপায় না পেয়ে শেষমেশ সংবাদমাধ্যমের দ্বারস্থ হয়েছেন সুকান্ত কলোনির দেড়শো পরিবার। অসহায় এই মানুষগুলো এখন সরাসরি রাজ্যের সততার প্রতীক, মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহার দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। এখন দেখার, এই বিস্ফোরক অভিযোগের পর সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কোনো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে কি না, নাকি দুর্নীতির জোয়ারে ভেসে যাবে দেড়শো অসহায় পরিবারের ভবিষ্যৎ

You may also like

Leave a Comment